মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু, উত্তেজনা

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রসবকালীন জটিলতায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেছেন নবজাতকের স্বজনরা।

এক পর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে কর্তব্যরত নার্স ও ইন্টার্ন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতাল পুলিশ ও সদর থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের পূর্ব রাস্তি গ্রামের মনছুর মোল্লার স্ত্রী সামিয়া বেগম (১৯) সকালে প্রথম সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নার্সরা নিয়মিতভাবে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। দুপুরে স্বাভাবিক প্রসবের প্রক্রিয়া চলাকালে জটিলতা দেখা দিলে রোগীর জীবন ও শিশুর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজন হলে এপিসিওটমি (সাইড কেটে প্রসব) করার বিষয়টি স্বজনদের জানানো হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এতে সম্মতি দেওয়া হয়নি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়। 

একপর্যায়ে দীর্ঘ প্রসব প্রক্রিয়ার পর নবজাতক মৃত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে। এরপর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে কর্তব্যরত মিডওয়াইফ, নার্স ও ইন্টার্ন শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। এতে হাসপাতালে উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে হাসপাতাল পুলিশ ইনচার্জ এএসআই আব্দুর রাজ্জাক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবজাতকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে হাসপাতালের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে।