প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন দেশটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা দেওয়ার নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। নতুন নিয়মে বিদেশি শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী (এক্সচেঞ্জ ভিজিটর) ও বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে।
নতুন নিয়ম কার্যকর করার মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে চালু থাকা তুলনামূলকভাবে শিথিল ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ পদ্ধতির অবসান ঘটতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক বিভাগ (ডিএইচএস) বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত নতুন বিধিমালা জারি করেছে। আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ বিধিমালার কথা বলেছে।
নতুন নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। অন্যদিকে, বিদেশি সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ ২৪০ দিন অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। আর চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা হবে সর্বোচ্চ ৯০ দিন।
নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসার মেয়াদ থাকা অবস্থায়ই মেয়াদ বাড়াতে আবার আবেদন করতে হবে। অন্যথায়, যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে নতুন করে আবেদনের মাধ্যমে ভিসা পেয়ে পুনরায় দেশটিতে প্রবেশ করতে হবে।
নতুন এই বিধিমালা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের ৬০ দিন পর কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগে কংগ্রেসে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, নতুন এই নীতির প্রভাব আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমে পড়তে পারে।
ডিএইচএস দাবি করেছে, গত বছর রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী ‘স্টুডেন্ট ভিসায়’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। সংখ্যায় অনেক হওয়ায়, তাদের কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে গেছে। এ কারণে স্টুডেন্ট ভিসা নীতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অভিবাসন আইনজীবীরা প্রশাসনের উক্ত সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা, গবেষণা ও শিক্ষকতার সুযোগ আরও ব্যয়বহুল ও সংকুচিত হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণ কমে য্ওায়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের ‘ওপেন ডোরস ২০২৫’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গত বছর পর্যন্ত ১৭ হাজার ২৭৭ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছিলেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পাঠানোর তালিকায় বাংলাদেশ অষ্টম স্থানে উঠে আসে। ২০২৪-২৫ সেশনে মোট ৮ হাজার ৫৯০ শিক্ষার্থী স্নাতক পর্যায়ে ও ৫ হাজার ২১০ শিক্ষার্থী উচ্চতর শিক্ষা পর্যায়ে ভর্তি হয়েছে। এর বাইরে অনেকে নন-ডিগ্রি প্রোগ্রাম ও ওপিটিতে যুক্ত আছেন।