তিনটি বিদেশী অস্ত্রসহ শ্যুটার বাপ্পি ও তার চার সহযোগী গ্রেপ্তার

রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও একাধিক মামলার আসামি তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬) এবং তার অন্যতম সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজনসহ (৩৫) ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

এ সময় বাপ্পির অফিস থেকে একটি রিভলবার, দুটি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ৭টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী এবং মতিঝিল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপস্) মোঃ সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল এসআই মুহাম্মদ মমিনুর রহমান ও এসআই তপু চক্রবর্তীর একটি টিম হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে প্রথমে তানিম রেজা বাপ্পি ও তার ৩ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কমলাপুর থেকে সহযোগী রিজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর বাপ্পি ও রিজনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায়, বাপ্পির অফিসে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রাখা আছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাত ১১:৩০টায় দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনায় ১৮ জুলাই বাপ্পি ও রিজনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ মে তারিখে দক্ষিণ কমলাপুরে চাঁদার দাবিতে এক ব্যবসায়ীর অফিসে গুলিবর্ষণ করে একদল সন্ত্রাসী। ওই ঘটনায় ২০ মে মতিঝিল থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১৭) দায়ের করা হয়। তদন্তে এই চক্রের মূলহোতা বাপ্পি ও তার সহযোগীদের নাম উঠে আসে। এরপর থেকেই তারা বিভিন্ন কৌশলে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। অবশেষে গতকালের অভিযানে বাপ্পি ও রিজনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

বাপ্পি সংক্রান্তে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে, সে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। বিভিন্ন শ্যুটিং ইনসিডেন্ট এর সাথে তার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। মতিঝিল অঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সে চাঁদাবাজি করে আসছিল কিন্তু কেউ অভিযোগ না করায় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। 

 আসামীদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। 

গ্রেপ্তারকৃত বাপ্পির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ সহ বিভিন্ন অভিযোগে ইতিপূর্বে কমপক্ষে সাতটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত বাপ্পির অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।