মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন তিনি অপ্রতিরোধ্য, মাঠের বাইরের কথায় এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্তিনেজ ঠিক তেমনই রহস্যময়। কয়েক বছর আগের তার সেই ভাইরাল মন্তব্য—‘দুটি বিশ্বকাপ জিতলে অবসর নেব’, তা নিয়ে চার বছর পর আরও একবার যখন আলবিসেলেস্তেরা ফাইনালে তখন এ নিয়ে শুরু হলো আলোচনা। তবে এবারের ফাইনালের আগে নিজের অবসরের জল্পনা নিয়ে কিছুটা কৌশলী উত্তর দিয়েছেন আর্জেন্টিনার এই 'বাজপাখি'।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে সেই পুরনো প্রসঙ্গ উঠতেই দিবু বলেন, ‘হ্যাঁ, এফএ-র ট্রেনিং গ্রাউন্ডে নিকোর (নিকোলাস তালিয়াফিকোর) সঙ্গে এটা নিয়ে কথা হয়েছিল। তবে এসব এখন দূরে সরিয়ে রেখেছি। আমার পুরো মনোযোগ এখন রবিববার স্পেনের বিপক্ষে জয়লাভের ওপর। এই দলটা বছরের পর বছর ধরে যেভাবে উন্নতি করেছে, তাতে শিরোপা জেতার তৃপ্তিই এখন প্রধান লক্ষ্য।’
অবসর নিয়ে রহস্য জিইয়ে রাখলেও বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কঠিন বাস্তবতার কথা আড়াল করেননি এই গোলরক্ষক। এবারের ফাইনালের আগে তিনি জানালেন এক দুঃসংবাদ, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তার ডান হাতের আঙুলে চিড় ধরেছিল। তিনি বলেন, ‘আমার হাতটা এখনো প্রতিদিন ব্যথা করে। বিশেষজ্ঞরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি সেটা এড়িয়ে গিয়েছি। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলার সময় বেশ কষ্ট হতো, তবে শেষ ষোলোর পর থেকে ব্যথার কথা আর ভাবিনি এবং এখন আগের চেয়ে ভালো বোধ করছি।’
নিজের হার না মানা মানসিক দৃঢ়তা এবং গোলকিপার হিসেবে দায়িত্ববোধ নিয়ে বলতে গিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘স্কোরবোর্ডে এক বা দুই গোল হজম করার পর ভেঙে পড়ার মতো গোলরক্ষক আমি নই। গ্লাভস পরে মাঠে নামার পর আমার দায়িত্ব হলো সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস জোগানো। দলের সবাই যখন আমার মধ্যে স্থিরতা দেখে, তখন তারা নিশ্চিন্তে আক্রমণে মনোযোগ দিতে পারে।’
টানা দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা একদম দুয়ারে আর্জেন্টিনা। ক্যারিয়ারের এই মুহূর্তটিকে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও বড় কিছু হিসেবে দেখছেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা। বিশেষ করে কোচের দেওয়া আস্থার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার এই 'বাজপাখি'। ‘কোচের পাঠানো একটি বার্তা আমার কাছে দশটি পেনাল্টি বাঁচানোর চেয়েও বেশি দামি। তিনি আমাকে বলেছিলেন, তুমি যেমনই থাকো, তোমাকে আমার দলে চাই। এমন আস্থাই একজন ফুটবলারের জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।’
নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সির তীব্র গরমে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ফাইনাল খেলতে নামবেন মার্তিনেজ। তবে প্রতিপক্ষ যাই হোক না কেন, গোলপোস্টের নিচে সেই চিরচেনা আত্মবিশ্বাসী এবং হাসিখুশি ‘মার দেল প্লাতার সেই ছেলেটি’কেই খুঁজে পাওয়া যাবে আরও একবার।