ক্রীড়া ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি নিয়ে বিতর্কের ঝড়!

অবশেষে দৈনিক দেশ রুপান্তরে প্রকাশিত খবরই সত্যি হল। ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর অ্যাডহক কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেণ সাধারন সম্পাদক ফোরামের সভাপতি এমএ কুদ্দুস খান ও সাধারন সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু। বক্সিংয়ের সাধারন সম্পাদক পদে সেই কুদ্দুস এবং উশুর ওই পদে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন তারা। এখানেই প্রমাণিত হয় কমিটি করার ক্ষেত্রে অনৈতিক অর্থ লেনদেনে সহযোগিতা করেছেন ওই দুই কর্মকর্তা।

শনিবার প্রাথমিকভাবে ২৮টি ক্রীড়া ফেডারেশনে নতুন অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। কোনও কমিটি ২৯ সদস্যের আবার কোন কমিটি ২৫ সদস্যের। ফলে অ্যাডহক কমিটির আকার নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। আর এসব কমিটি নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে ক্রীড়াঙ্গণে।

২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নির্বাচিত কমিটি সব ভেঙ্গে নতুন করে অ্যাডহক কমিটি দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তখন অবশ্য প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন আয়োজনের দিনক্ষণ নির্ধারন করে দেওয়া হয়নি। তৎকালীন সচিব এবং পরবর্তীতে প্রধান নির্বাহী (ইডি) আমিনুল ইসলাম বলেছিলেন, বিশেষ সময়ে (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) গঠিত কমিটির কোন সময় সীমা থাকবে না। সরকার যতদিন মনে করবে তারা ততদিন থাকবে।’ তারপরও নতুন ঘোষিত কমিটির তালিকায় আগের কমিটিকে নির্বাচন আয়োজন না করতে পারার ব্যর্থতাকে দেখানো হয়েছে। যে ব্যর্থতার দায়ভার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদেরও রয়েছে। এই ঘটনাকে অনেকেই নীতি বহির্ভূত বলছেন। 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর টেকনোক্রাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হন সাবেক তারকা ফুটবলার আমিনুল হক। চেয়ারে বসেই তিনি দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্য চিহ্নিতকরণ, সমস্যা নিরসন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনয়নে সুপারিশ প্রদানে কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটিই মূলত ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের সুপারিশ করে। তাই নতুন কমিটি নিয়ে সমালোচনার দায় তাদের কাঁধেও বর্তায়।

প্রথম দফায় ২৮টি ক্রীড়া ফেডারেশনে নতুন অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। যেখানে প্রধান নির্বাহীর (ইডি) সাক্ষর রয়েছে। ২৮টি কমিটির মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেওয়া সাতজন সাধারন সম্পাদক পদেই বহাল রয়েছেন। বক্সিংয়ে এমএ কুদ্দুস খান, উশুতে দিলদার হাসান, জিমন্যাস্টিক্সে হাবিবুর রহমান জামিল, কুস্তিতে মেসবাহ উদ্দিন আজাদ, হ্যান্ডবলে সালাউদ্দিন আহমেদ, রাগবিতে আখতার জামান এবং টেনিসে ইশতিয়াক আহমেদ কারেন। তবে যেসব ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক পদে পরিবর্তন এসেছে সেগুলো হলো- অ্যাথলেটিকসে অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন, কাবাডিতে ইসরাইল হাওলাদার, ক্যারমে আজহারুল ইসলাম কনক, খো খোতে রায়হান উদ্দিন ফকির, জুডোতে নয়না চৌধুরী, টেবিল টেনিসে সাইদুল হক সাদী, তায়কোয়ান্দোতে মাহমুদুল ইসলাম রানা, দাবায় গ্রান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ,  ফেন্সিংয়ে কাজী সাইফুল হক, ব্যাডমিন্টনে কাজী হাসিবুর রহমান, ভলিবলে আবদুল মুমিন সাদ্দাম, ভারোত্তোলনে এসএম কাজল, মহিলা ক্রীড়া সংস্থায় শারমিন আক্তার রতœা, রোইংয়ে সাইফুদ্দিন আলী, শুটিংয়ে সাকিফ শামীম, সাইক্লিংয়ে পারভেজ হাসান, আরচারিতে সৈয়দ তানভীর, সুইমিংয়ে সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল, কারাতেতে সৈয়দ নুরুজ্জামান সিনথিয়া এবং হকিতে ইশতিয়াক সাদেক।

ঘোষিত নতুন এসব কমিটি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে ক্রীড়াঙ্গণে। যেমন সাবেক শুটার শারমিন আক্তার রত্না মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদিকার পাশাপাশি শুটিংয়ে যুগ্ম সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও রাখা হয়েছে। অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে রাখা হয়নি সাবেক তারকা অ্যাথলেট ও কোচ মো. ইয়াহিয়াকে। কারাতে ফেডারেশনের সদস্য করা হয়েছে বাশাআপ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক তারকা মার্শাল আর্ট খেলোয়াড় খালেদ মনসুর চৌধুরীকে। এছাড়া ভলিবলের মতো বড় একটি ফেডারেশনে টেনে আনা হয়েছে কমিঠি গঠনে অনৈতিক অর্থ লেনদেনে সাবেক এক তারকা ফুটবলারকে সহযোগিতা করার দায়ে অভিযুক্ত আবদুল মুমিন সাদ্দামকে। যদিও দেওয়ান সজল বলেছিলেন, বর্ষীয়ান সংগঠকদেরকেই রেখে দেওয়া হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে আশিকুর রহমান মিকু কিংবা বিমল ঘোষন বুলুকে রাখা হয়নি। আর সাঁতারের সাধারন সম্পাদক পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল নিজেই।

এসব সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্য চিহ্নিতকরণ, সমস্যা নিরসন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনয়নে সুপারিশ প্রদানে কমিটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান বলেন, ‘মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ও শুটিং আলাদা। দুই জাগাতেই থাকতে পারেন রত্না। এতে কোন সমস্যা নেই।’ সাধারন সম্পাদক পদে আটজনের থেকে যাওয়ার বিষয়ে তার কথা, ‘সবাইকেতো আর পরিবর্তন করা যাবে না।’