আগেও আটক হয়েও ফসকে যান জিয়ার ঘাতক মোজাফফর

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর জালে ধরা পড়েছিলেন।

র‍্যাবের একজন সাবেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০০৭ সালে ১/১১-এর পর ঢাকার বিমানবন্দরে মোজাফফর তাদের হাতে আটক হয়েছিলেন। তবে তিনি নিজের সামরিক কর্মকর্তার পরিচয় গোপন করে তার কানাডীয় নাগরিক ও ব্যবসায়ীর পরিচয় সামনে আনেন। আর সে সময়ের সরকারও এ বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নানা ঘটনাপ্রবাহ শেষে কানাডায় গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছিলেন মোজাফফর। পরে সে দেশের নাগরিকও হন। সেই দেশের পাসপোর্ট নিয়েই ৯০ দশক থেকে বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় সরকারের সঙ্গে ব্যবসাও করেছেন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের জয়ের পর তিনি নিয়মিতই বাংলাদেশে যাতায়াত করতেন। জুলাই আন্দোলনের আগে মোজাফফর দেশে ফেরে এবং এরপর তিনি আর ফিরে যাননি।

একটি সূত্র বলছে, তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, কেউ তাকে চেনে না, তাই তিনি নিরাপদ।

ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির ১৬ জুলাইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। জিজ্ঞাসাবাদ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে জানানো হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের একটি দলের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জানান, যেহেতু তিনি সেনাবাহিনী থেকে পলাতক ছিলেন, তার বিচার সেনা আইনে হতে হবে।