লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক শিশু শিক্ষার্থীর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে কান্নার দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভিডিওটির সাথে তিনি লিখেছিলেন, ‘পিচ্চি পোলাপানরে কান্না করাইতে ভালোই লাগে’। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
ঘটনাটি রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের দারুল উলুম কোরআন মাদ্রাসায় ঘটেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রায় আড়াই মাস আগে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নারত এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষক। এতে শিশুটির কান্না আরও বাড়ে। শিশুটি হাত দিয়ে বেত সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষক থামেননি; বরং ভিডিওতে তাকে হাসতে শোনা যায়। গত ১৬ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত শিক্ষক ভিডিওটি মুছে ফেলার পাশাপাশি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টও ডিলিট করে দেন।
রবিবার (১৯ জুলাই) ফেসবুক লাইভে এসে দুঃখ প্রকাশ করে ইমরান হোসেন বলেন, ‘ভিডিওটি আমিই ধারণ করেছি এবং আমিই প্রকাশ করেছি। ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম। আমি তাকে মারধর বা ধমক দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইমরান হোসেন টিকটক ও রিলস তৈরিতে অতিরিক্ত আগ্রহী ছিলেন। শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করাসহ তার আচরণ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, চাকরিতে থাকা অবস্থায় ভিডিওটি ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ইমরান একজন টিকটকার ছিলেন। শুরু থেকেই তার আচরণে নানা অসঙ্গতি ছিল। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অকারণে শাস্তি দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু তিনি কোনো সতর্কবার্তাই আমলে নেননি। শেষ পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত করা হয়।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ খোঁজখবর নিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে রায়পুরে নেই এবং প্রায় এক মাস ধরে মাদ্রাসাটিও বন্ধ রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।