ভোলার গৃহবধূ হত্যা, ১৪ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

অবশেষে বিচার মিলেছে ভোলার চরফ্যাশনের গৃহবধূ হুনুফা আক্তার হত্যা মামলার। ঘটনার দীর্ঘ ১৪ বছর পর স্বামী হাফিজুল হককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই শেষে এ রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চর মায়া কলমী গ্রামের বাসিন্দা আমেনা বেগম জীবিকার তাগিদে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন এবং সবজির ব্যবসা করতেন। রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি কলার আড়তে কাজ করার সময় জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর গ্রামের মৃত প্রধান মিয়ার ছেলে হাফিজুল হকের সঙ্গে তার দ্বিতীয় মেয়ে হুনুফা আক্তারের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০১২ সালে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। 
পরবর্তীতে দুই পরিবার বিষয়টি মেনে নিলেও বিয়ের পর থেকেই এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে হুনুফার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকেন হাফিজুল।

একপর্যায়ে ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জামালপুরের বকশীগঞ্জে নিজ বাড়িতে শ্বাসরোধ করে স্ত্রী হুনুফা আক্তারকে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় ১৯ সেপ্টেম্বর নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পর সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে সোমবার আদালত আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে হাফিজুল হককে মৃত্যুদণ্ড এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. মোজাম্মেল হক।