রহস্যজনক না বলে, বিচিত্র বলা ভালো। নাম তার ‘হেলেবোর’। পৌরাণিক কাহিনি এবং চিকিৎসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ফুলটি। ‘উইন্টার রোজ’ নামে পরিচিত। প্রচণ্ড শীতে ফোটার জন্য অনেকের কাছে বিস্ময়কর। গ্রিক পুরাণে তাকে পাগল চিকিৎসার ‘মহৌষধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসক মেল্যাম্পাস গ্রিক দেবতা ডাইনিসাসের অভিশাপে, উন্মাদ হয়ে যাওয়া আরগোস রাজকন্যার চিকিৎসায় হেলেবোর ফুল ব্যবহার করেছিলেন। এরপর তাকে সুস্থ করেন। খ্রিস্টান ধর্মে ‘ক্রিসমাস রোজ’ নামে পরিচিত এটি। পৌরাণিক গল্পে বলা হয়েছে যিশুখ্রিস্টের কাছে দরিদ্র মেষপালক বালিকা উপহার না পেয়ে, কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। এরপর তুষার ঢাকা মাটিতে মেয়েটির চোখের জল পরতেই ‘হেলেবোর’ ফুল ফুটে। এটি যেমন রোগ নিরাময় করে, তেমনি বিষাক্ত। প্রাচীনকালে ডাইনি ও জাদুকররা নানা মন্ত্রে, এ ফুল ব্যবহার করত। শীতের বরফ ও তুষারের মধ্যে এটি প্রাণবন্ত রূপ ধরে রাখে। অনেকে বলেন, ‘হেলেবোর’ নামের উৎপত্তি নিয়ে কিছু প্রাচীন রহস্য রয়েছে। প্রাচীন রোমান এবং মধ্যযুগে মানুষ বিশ্বাস করত ফুলের শুকনো গুঁড়ো বাতাসে ছিটিয়ে দিলে অদৃশ্য হওয়া যায়। একইসঙ্গে এটি অশুভ আত্মাকে দূরে রাখে। হেলেবোর গাছের ছাল এবং ফুল মানুষের জন্য বিষাক্ত। গাছের পাতা বা ফুলের ডাঁটা স্পর্শ করার পর, অনেকের ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। তবে গণচাষ না করা ভালো। কারণ সবার জন্য না হলেও, অন্তত শিশুদের জন্য। কারণ এই ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তারা মুখে দিতে পারে। এটি চিবানো বা খাওয়া হলে মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়।