আইবিএস বা ইরিট্যাবল বাওয়েল সিন্ড্রোম হলো পরিপাকতন্ত্রের ফাংশনাল ডিজঅর্ডার। সাধারণত ৪৫ বছরের আগেই এর লক্ষণ দেখা দেয় এবং পুরুষদের তুলনায় নারীদের আক্রান্তের হার গুণ।
এটি মাল্টিফ্যাক্টোরিয়াল সমস্যা, যার মূল কারণগুলো হলো অন্ত্রের স্নায়ুর অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা, কোলনের পেশির অস্বাভাবিক সংকোচন-প্রসারণ (খুব দ্রুত বা ধীরগতি), মস্তিষ্ক ও পরিপাকতন্ত্রের স্নায়বিক যোগাযোগের ভারসাম্যহীনতা, তীব্র মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা এবং পেটের পুরনো ইনফেকশন।
প্রধান লক্ষণ : তলপেটে মোচড় দিয়ে ব্যথা বা অস্বস্তি (যা মলত্যাগের পর কমে) এবং মলত্যাগের অভ্যাসে অনিয়ম।
অন্যান্য লক্ষণ : পেট ফাঁপা বা ফুলে থাকা, মলত্যাগের তীব্র বেগ এবং পেট পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি।
মলের ধরনের ওপর ভিত্তি করে আইবিএস ৪ প্রকার ।
ওইঝ-উ: ডায়রিয়া প্রধান (পাতলা পায়খানা বেশি হয়)।
ওইঝ-ঈ: কোষ্ঠকাঠিন্য প্রধান (কষা পায়খানা বেশি হয়)।
ওইঝ-গ: ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য পর্যায়ক্রমে হয়।
ওইঝ-ট: নির্দিষ্ট কোনো ক্যাটাগরিভুক্ত নয়।
জড়সব ওঠ মানদন্ড অনুযায়ী, গত ৩ মাসে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১ দিন পেটে ব্যথা এবং মলত্যাগের সঙ্গে সম্পর্ক, মলের সংখ্যা বা গঠনের পরিবর্তনের যেকোনো ২টি মিললে আইবিএস নির্ণয় করা হয়।
কিছু বিপজ্জনক লক্ষণ বা ‘অ্যালার্মিং সাইন’ দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে ।
পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া এবং কোনো কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস পাওয়া। রক্তস্বল্পতা বা পেটে কোনো চাকা অনুভব হওয়া। পরিবারে কোলন ক্যানসারের ইতিহাস থাকা।
চিকিৎসা : আইবিএস সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়, সঠিক ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার, মিষ্টি ফল, দুধ ও দুধের তৈরি খাবার, চা, কফি, ফুলকপি, কোমল পানীয় ও ডাল বাদ দেওয়া। চিকিৎসকের পরামর্শের ধরন অনুযায়ী ওষুধ ও দুশ্চিন্তা কমানোর ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের জন্য সাইকোথেরাপি (ঈইঞ) কার্যকরী ভূমিকা রাখে।