শাহজাদপুর পৌরসভায় দেড় যুগ ধরে অচল পানি সরবরাহ

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরবাসীর সুপেয় পানি সরবরাহর জন্য ৫টি পাম্প হাউজ ও ১৫ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপনের দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনও পানির ট্যাপ দিয়ে এক ফোঁটাও পানি মেলেনি। পৌরসভা থেকে জানানো হয় পানি সরবরাহের লক্ষে পৌর সভা ১ হাজার পানির মিটার ক্রয় করে তিনশ বাড়িতে মিটার সংযোগও দেওয়া হয়।

এদিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, শাহজাদপুর পৌর সভায় প্রায় দেড় যুগ আগে ৪০-পৌরসভা এন্ড গ্রোথ সেন্টর ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন (৪০ শহর প্রকল্পে) প্রকল্পের আওতায় দুই দফায় ৫টি পাম্প হাউজ ও ১৫ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে প্রথম দফায় উপজেলা পরিষদ এলাকায় (উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসার পাশে) ও দ্বারিয়াপুর মহল্লায় দুইটি পানির পাম্প বসানো হয়। ২০০৮ সালে এই দুইটি পাম্প হাউজ ও আংশিক পাইপ লাইন নির্মাণ করার পরে আরো তিনটি পাম্প হাউজ ও পাইপ লাইন নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়।  

শাহজাদপুর জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী রিপন মিয়া জানান, আমি শাহজাদপুরে যোগদানের অনেক আগে কাজ গুলো সমাপ্ত হয়েছে । পুরাতন ফাইলপত্র সে ভাবে সংরক্ষণ না থাকায় কত টাকা ব্যয়ে ও কোন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ গুলো করেছেন তা আমার জানা নেই। তবে শুনেছি প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে দুই দফায় প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত করতে। 

এদিকে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাম্প গুলো চালু না থাকায় সব গুলো পাম্প হাউজের দরজায় তালা ঝুলছে। পাম্প গুলোতে মরিচা ধরেছে। প্রায় সব গুলো পাম্প হাউজ ঝোঁপঝারে ডুবে গেছে। পানির সরবরাহ না থাকায় যে সকল বাড়িতে পানির মিটার লাগানো হয়েছিল সেই মিটার গুলোতে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। 

পুকুরপাড় দত্ত পাড়া মহল্লার সংগীত শিক্ষক শ্যামল কুমার সাহা জানান, তার বাড়িতে অনেক কাল আগে পৌরসভা থেকে পানির মিটার লাগানো হয়। কিন্তু পাইপ লাইনের পানি পাননি। 

২নং ওয়ার্ডের, চরুয়া পাড়ার সহিদুল ইসলাম গ্যাদা জানান, তাদের বাড়িতে পানির জন্য মিটার চেয়ে আবেদন করেন। মিটারতো দূরের কথা পাাইপে পানিই আসে নাই তাদের এলাকায়।

এদিকে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশীদ জানান, পাইপ লাইনের ত্রুটি ধরা পরায় কয়েক দফা চেষ্টার পরেও পাম্প চালু রাখা যায়নি। তিনি জানান এতে পানির পাম্প গুলো নষ্ট হচ্ছে। সেই সাথে পানি সরবরাহের পাইপ লাইন জ্যাম হচ্ছে। তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে পাম্প হাউজ ও পাইপ লাইনের স্থাপনের কাজ শেষে সকল প্রকার পরীক্ষানিরীক্ষার পর পাম্প ও পানির লাইন আনুষ্ঠানিক ভাবে শাহজাদপুর পৌরসভার কাছে হস্তান্তর হয়েছে। 

শাহজাদপুর জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী রিপন মিয়া জানান, হস্তান্তরের পর পৌরসভা থেকে সঠিকভাবে তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাইপ লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

এদিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, শাহজাদপুর পৌর এলাকায় অনেক কাল আগেই তাঁত শিল্প ও দুগ্ধশিল্প গড়ে উঠে। এ শিল্পে প্রচুর আয়রনমুক্ত পানির প্রয়োজন। সেই লক্ষে এলাকায় সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে পাঁচটি পানির পাম্প ও ১৫ কিলোমিটার পানির পাইপ বসানো হয়। এ ছাড়া বহুতল বাসা গড়ে ঊঠায় পাইপ লাইনের পানির চাহিদা বেড়ে যায়। পৌর সভা প্রতিটি শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ডেইরি খামারে বাসা বাড়িতে পানি সরবরাহ করতে না পারায় লোকজন বিকল্প পানির উৎস খুঁজতে থাকে। এ কারনে শাহজাদপুরে সাবমার্সেবল পানির পাম্প বসানোর হিড়িক পরে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যেতে শুরু করেছেন। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে পৌর সভার পাম্প হাউজ ও পাইপ লাইন গুলো জরুরী ভাবে মেরামত করতে হবে।