শ্রীরামপুর সীমান্তে বিএসএফের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা, বিজিবির বাধার মুখে পণ্ড

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক নিয়ম উপেক্ষা করে শূন্যরেখার কাছাকাছি কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জোরালো বাধা ও কঠোর অবস্থানের মুখে পর পর দুই দিনই সেই চেষ্টা পণ্ড হয়ে গেছে।

​সীমান্তে দুই বাহিনীর এমন মুখোমুখি অবস্থান ও থমথমে পরিস্থিতির পর বিজিবি টহল জোরদার করেছে। ওপারে বিএসএফের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্থানীয়রা।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোম ও মঙ্গলবার (২০ ও ২১ জুলাই) দুপুরে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী ও প্রধানবাড়ী খেংটি সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৪৫-এর ১ ও ২ নম্বর সাবপিলার এলাকায় বিএসএফের ৯৮ ব্যাটালিয়নের মহানদী ও পানিশালা ক্যাম্পের সদস্যরা সিমেন্টের খুঁটি পোতার কাজ শুরু করে।

​সোমবার দুপুরে ভারতের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার হাড়িকামাত সীমান্ত এলাকা সংলগ্ন শূন্যরেখা থেকে মাত্র ৩০ গজ ভেতরে বেড়া দিতে শুরু করলে খবর পায় বিজিবির তিস্তা-২ (৬১ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের পঁয়ষট্টিবাড়ী ক্যাম্পের টহল দল। বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে তীব্র আপত্তি জানালে বিএসএফ সদস্যরা তর্কে লিপ্ত হয়। তবে বিজিবির অটল মনোভাবের কাছে নতি স্বীকার করে তারা নির্মাণ সামগ্রী ও শ্রমিকদের নিয়ে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

​একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে পরদিন মঙ্গলবারও। ঐ দিন দুপুরে প্রধানবাড়ী খেংটি সীমান্তে বিএসএফ ফের কাঁটাতারের খুঁটি বসানোর চেষ্টা করলে বিজিবির টহল দল আরও কঠোর অবস্থান নেয়।

​পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে সীমান্ত পয়েন্টেই এক জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আলাউদ্দিন এবং ভারতের পক্ষে পানিশালা কোম্পানির কমান্ড্যান্ট ইনস্পেক্টর শচীন রায় নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে বিজিবির স্পষ্ট বাধার প্রেক্ষিতে বিএসএফ কাজ বন্ধ রাখতে রাজি হয় এবং দুই পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া সীমান্ত এলাকায় কোনো কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পূর্বে স্থাপিত বাঁশের খুঁটি সরিয়ে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। বিজিবির সময়োচিত হস্তক্ষেপের কারণে বিএসএফ পিছু হটেছে এবং বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সর্বোচ্চ নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।