কুয়াকাটা বসতবাড়ি থেকে ৪ ফুট লম্বা পদ্ম গোখরা উদ্ধার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পরিমল চন্দ্রের বসতবাড়ি থেকে প্রায় ৪ ফুট লম্বা একটি বিষধর পদ্ম গোখরা উদ্ধার করে নিরাপদে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া)-এর ব্যানারে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, কুয়াকাটা (উপরা) টিমের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন। পরে গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পরিমল চন্দ্রের বাড়ির আঙিনায় হঠাৎ বিষধর সাপটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে জীবিত অবস্থায় সাপটি উদ্ধার করে। এ সময় উদ্ধার অভিযান দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমলেও সবাইকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া)-এর কুয়াকাটা টিমের সদস্য কেএম বাচ্চু বলেন, লোকালয়ে কোনো বন্যপ্রাণী চলে এলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা না করে বন বিভাগ বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। বন্যপ্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, কুয়াকাটা (উপরা)-সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে বন্যপ্রাণী হত্যা অনেকাংশে কমে আসবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছি।

বন্যপ্রাণী উদ্ধার কর্মী রাকায়েত আহসান বলেন, উদ্ধারের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। পরে সাপটিকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থল গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়েছে, যাতে এটি নিরাপদে বেঁচে থাকতে পারে।

মহিপুর থানা রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সাপসহ সব বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত। তাই লোকালয়ে কোনো বন্যপ্রাণী দেখা গেলে সেটিকে না মেরে বন বিভাগ অথবা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।