বিয়ে পবিত্র বন্ধন। ইসলাম বিয়েকে যথাযথ সাক্ষীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন এবং তা মানুষের কাছে প্রকাশ করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। গোপন বিয়ে নানা ধরনের সন্দেহ, অপবাদ ও সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দেয়। হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফাতকালে দুটি গোপন বিয়ের বিষয়ে বর্ণনা পাওয়া যায়। একটি গোপন বিয়ের ক্ষেত্রে তিনি শাস্তিও দিতে চেয়েছিলেন।
প্রথম ঘটনা
হাসান আল বসরি (রহ.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি এক নারীকে বিয়ে করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখেন। তিনি গোপনে ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এক ব্যক্তি তাকে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করতে দেখে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়। পরে বিষয়টি হজরত ওমর (রা.)-এর কাছে উপস্থাপন করা হয়।
ওমর (রা.) ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমি সামান্য কিছু মোহরের বিনিময়ে এই নারীকে বিয়ে করেছি এবং বিষয়টি গোপন রেখেছি।’
ওমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের এই বিয়েতে কে সাক্ষী ছিল?’
তিনি উত্তর দিলেন, ‘কনের পরিবারের কিছু লোক সাক্ষী ছিল।’
তখন ওমর (রা.) অপবাদদাতার ওপর থেকে অপবাদের শাস্তি মওকুফ করে দিয়ে বলেন, ‘তোমরা এই বিয়ের ঘোষণা ও প্রচার করো এবং এর মাধ্যমে নিজেদের লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করো।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ)
দ্বিতীয় ঘটনা
ইমাম মালেক (রহ.) বর্ণনা করেন, হজরত ওমর (রা.)-এর কাছে এমন একটি বিয়ের ঘটনা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে সাক্ষী ছিলেন মাত্র একজন পুরুষ ও একজন নারী এবং বিয়েটি সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল।
ঘটনাটি জানার পর হজরত ওমর (রা.) বলেন, ‘এটি একটি গোপন বিয়ে এবং আমি এর অনুমতি দিই না। আমি যদি এই বিয়ের বিষয়ে আগে জানতে পারতাম, তবে অবশ্যই তাদের পাথর ছুড়ে মারতাম (ব্যভিচারের শাস্তি দিতাম)।’ (মুয়াত্তা মালেক)
উভয় ঘটনাই বিয়ে গোপন রাখার নেতিবাচক দিক তুলে ধরে। প্রথম ঘটনায় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া বিয়েকে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অপবাদ ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটে। দ্বিতীয় ঘটনায় এমন গোপন বিয়ের কঠোর নিন্দা করা হয়েছে, যেখানে বিয়ের স্বচ্ছতা ও যথাযথ সাক্ষ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ছিল। কেননা সাক্ষী যদি একজন পুরুষ থাকে, তাহলে কমপক্ষে আরো দুইজন নারী সাক্ষী থাকতে হবে।