হজ প্যাকেজ ঘোষণা

সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৮ হাজার ৪৮১ টাকা খরচ বাড়ল

গত বছরের তুলনায় ৩৮ হাজার ৪৮১ টাকা বাড়িয়ে আগামী বছরের হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা, যা ২০২৬ সালে ছিল চার লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। এ ছাড়া বেসরকারি প্যাকেজ নির্ধারিত হয়েছে পাঁচ লাখ ১৩ হাজার টাকা, যা আগেরবার ছিল পাঁচ লাখ ৯ হাজার ১৮৫ টাকা। তবে হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া ৩৭ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। ফলে হজযাত্রায় বিমান ভাড়া পড়ছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। বাড়ি ভাড়াসহ আরও কিছু সুবিধার জন্য কিছু অর্থ বেশি নেওয়া হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা করে এসব কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় ৩৭ হাজার টাকা কমিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হজ এক প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরিফের বহিঃচত্বর থেকে এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। মিনায় জোন-২ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা-আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার সরবরাহ করা হবে। সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৩৫-৪০ দিন। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেওয়া যাবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। হজ প্যাকেজ-২ এ প্যাকেজ-১ এর চেয়ে কিছুটা সুলভ। এ প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হোটেল হারাম শরিফের বহিঃচত্বর থেকে ২-৩ কিলোমিটারের মধ্যে হবে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী হতে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মিনায় জোন-৫ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা-আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেলের অবস্থান দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুসারে সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা থাকবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের চারটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করে অন্তর্র্বর্তী সরকার। এর মধ্যে সরকারি হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ)-এ মোট খরচ ছিল ছয় লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা। সরকারি প্যাকেজ-২-এ পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা, সরকারি হজ প্যাকেজ-৩-এ চার লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। এ ছাড়া বেসরকারি প্যাকেজে ছিল পাঁচ লাখ ৯ হাজার ১৮৫ টাকা।

কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, বেসরকারি তথা হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রীদের জন্য ‘বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ’ নামে একটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরিফের বহিঃচত্বর থেকে সর্বোচ্চ তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মসজিদে নববী থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে আবাসন সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একরুমে সর্বোচ্চ ছয়জনের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্প্রতি ২০২৬ সালের হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুন্দর ও সাবলীল হজ ব্যবস্থাপনা জাতিকে উপহার দিতে পেরেছি। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একটি দ্বিপক্ষীয় সভায় বাংলাদেশের এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন। হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও হজযাত্রীদের উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সৌদি সরকার প্রতি বছর হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো না কোনো নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। ২০২৭ সালের হজে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় হাজিদের সেবা, আবাসন ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। মন্ত্রী বলেন, তারা মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন, যাতায়াত, ক্যাটারিং, তাঁবু ও সার্ভিস প্যাকেজকে একটি সমন্বিত প্যাকেজের মধ্যে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৬ সালে মিনা-আরাফায় এ, বি, সি ও ডি মোট চারটি সার্ভিস প্যাকেজ ছিল। কিন্তু ২০২৭ সালের হজে সার্ভিস প্যাকেজ হবে ৩টি; ‘ডি’ সার্ভিস প্যাকেজটি থাকছে না। এ ছাড়া ২০২৭ সালের হজে হাফ বোর্ড ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণে হজযাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের হজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিমান ভাড়া কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছিল। এ বছর প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় বিমান ভাড়া গত বছরের চেয়ে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ২০২৩ সালে বিমান ভাড়া ছিল প্রায় দুই লাখ টাকা। ২০২৫ সালে অন্তর্র্বর্তী সরকারের মেয়াদে বিমান ভাড়া এক লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা করা হয়। ২০২৭ সালের হজে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিমান ভাড়া কমিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা হজ ফ্লাইটে বিমান ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ৮ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরু হবে এবং ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। ই-হজ সিস্টেমে প্যাকেজ নির্বাচন করে সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন এবং প্যাকেজের বাকি টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন করা যাবে। হজে যাওয়ার জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকতে হবে।