ইরান তাদের হাজার হাজার পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ নাতাঞ্জের কাছে অবস্থিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কয়েক মাস পর, গত শরতে এই স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে বলে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা মনে করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাহাড়ের প্রায় ৩০০ ফুটেরও বেশি গভীরে কঠিন গ্রানাইটের নিচে নির্মিত এই স্থাপনাটি নাতাঞ্জ ও ফোরদোর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের তুলনায় অনেক বেশি সুরক্ষিত। ফলে বিমান হামলা চালিয়ে এটি ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্যাটেলাইট চিত্র ও গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত প্রায় ১৫ মাস ধরে পিকঅ্যাক্স এলাকায় ট্রাক চলাচল এবং ব্যাপক নির্মাণকাজের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, স্থাপনাটির উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। তবে সেন্ট্রিফিউজগুলো ঠিক কোন কেন্দ্র থেকে সেখানে নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। কর্মকর্তাদের ধারণা, সেগুলো ইরানের অন্যান্য পারমাণবিক স্থাপনা থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পরিদর্শকদের এখন পর্যন্ত পিকঅ্যাক্স স্থাপনাটি পরিদর্শনের অনুমতি দেয়নি ইরান। সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে, সে সম্পর্কেও কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি তেহরান।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি গত মার্চে জানান, ২০২১ সালেই ইরান সংস্থাটিকে জানিয়েছিল যে, পিকঅ্যাক্স স্থাপনায় তারা পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। তবে আন্তর্জাতিক তদারকি না থাকায় সেখানে গোপনে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর আশঙ্কা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, পিকঅ্যাক্স ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, 'পিকঅ্যাক্স একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য। খুব শিগগিরই সেখানে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।' মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, যেখানে ইরানের সেন্ট্রিফিউজ রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র 'খুব শিগগিরই এবং অত্যন্ত জোরালোভাবে' হামলা চালাবে। তার দাবি, ইরানের পক্ষে তা ঠেকানো সম্ভব হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ইরানবিষয়ক পরিচালক নেট সোয়ানসন এ ঘটনাকে 'সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি' বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, যদি ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের পথে এগিয়ে যায়, সেটিই হবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি। তিনি বলেন, 'আমরা জানি না ইরানের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী। তবে এই স্থাপনাটি যাচাই করতে না পারা বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় সমস্যা।'
তবে ইরান বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও দেশটি অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রার কাছাকাছি পর্যায় পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ রয়েছে।