জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সংসদীয় তদন্ত দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা তাসনিম জারা। তিনি বলেছেন, অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়া উচিত। অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কলঙ্কমুক্ত হবেন, আর সত্য প্রমাণিত হলে সংসদের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাসনীম জারা এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, একটি চাকরির আশায় দরিদ্র পরিবারের এক তরুণী স্থানীয় ক্ষমতাবান জনপ্রতিনিধির কাছে সুপারিশ চাইতে গিয়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে চাকরি শুধু একটি কর্মসংস্থান নয়, বরং একটি পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। কিন্তু সেই সুপারিশের আড়ালে কী ঘটেছে, তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
জারা লেখেন, 'সম্ভাবনা মানেই প্রমাণ নয়। কিন্তু যে প্রাথমিক তথ্য সামনে এসেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি অনুসন্ধান করা উচিত।'
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সংসদ নীরব থাকলে জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা যাবে। তার ভাষায়, 'সংসদ যদি চুপ করে থাকে, তাহলে মানুষ মনে করবে গরিব ও অসহায় মানুষের স্বার্থ রক্ষায় নয়, বরং তাদের শোষণের জন্যই এই ব্যবস্থা টিকে আছে।'
ফেসবুক পোস্টে তাসনীম জারা চাকরির ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশনির্ভর সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই সুপারিশনির্ভর ব্যবস্থা বদলায় না।
তার দাবি, চাকরির ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশের প্রয়োজনীয়তা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে এবং সাধারণ মানুষকে ক্ষমতাবানদের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই ব্যবস্থার ঝুঁকিপূর্ণ দিকটি আবারও সামনে এনেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।