বৈদেশিক সম্পর্ক চলবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে 

বৈশ্বিক রাজনীতির তিন পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনকে জানানো হয়েছে, বর্তমান সরকার বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশ ফার্স্ট) নীতি অনুসরণ করবে। বুধবার দেশ তিনটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ কথা জানান।

তিনটি বৈঠকেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ওপর বর্তমান সরকারের গুরুত্ব আরোপের প্রতিফলন হিসেবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি দেশের বৈদেশিক সম্পর্কের পথনির্দেশক নীতি হিসেবে থাকবে।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে এ বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানায়। 

বৈঠকগুলোয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও সংযোগসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসরের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। খলিলুর রহমান রুবিওকে ঢাকা সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। 

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে উভয়পক্ষ যৌথভাবে একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎ চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যাপক সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিতে একমত হয়। তারা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের দেশটিতে প্রত্যাবাসন, বহুমুখী সুবিধাসম্পন্ন পরিবহন করিডর, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে আরো সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উভয়পক্ষ বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার আলোচনার জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরো বাড়াতে সম্মত হন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গেও ম্যানিলায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির ধারা পর্যালোচনা করেন এবং সহযোগিতা আরো গভীর করতে একমত হন।

 প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এসব বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে অংশ নেন।