তরুণীর সঙ্গে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার জেরে নিজ দল থেকে বহিষ্কার হয়েছে জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। বুধবার ঢাকার মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দলের নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে তাকে বহিষ্কারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দল থেকে বহিষ্কারের পর ওই দলের নেতা হিসাবে এমপি থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলামের। নৈতিক স্থলনের বিষয়টি সংসদীয় কমিটিতে তদন্ত হতে পারে।
তাছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে।
এদিকে, দলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কৃত হলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যাবে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
বুধবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মূল পরিচয় ও আইনগত ভিত্তি তৈরি হয় দলগত কাঠামোর ওপর ভর করে। তাই দল যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে এবং তার মনোনয়ন প্রত্যাহার বা বাতিল করে, তবে তার আসন শূন্য হওয়াটাই স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়া।
আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় বহিষ্কার সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র বা চিঠি এখনও (বুধবার রাত ৯টা) নির্বাচন কমিশনের হাতে পৌঁছেনি বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার। তবে জামায়াতের একটি সূত্র বলছে, শিগিরিই এ সংক্রান্ত চিঠি নির্বাচন কমিশিনে পৌঁছে দেওয়া হবে। আইনগত দিক বিশ্লেষণ করে চিঠি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা শিশির মোহাম্মদ মনির ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে তার ফেসবুকে লিখেন, ‘‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে আছে ‘পদত্যাগ’। তিনি হয়েছেন ‘বহিষ্কার’। জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিচ্ছে। কারণ ‘নৈতিকস্খলন’। প্রশ্ন হচ্ছে সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন কি না? আমার মতে না।’’
গত সোমবার রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওতে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। গত মঙ্গলবার দুপুরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগম।
গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে ঢাকায় মরিয়াম বেগমের বাবা মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরপর তার প্রথম স্ত্রী, ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ এবং ‘ দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা’ ভিডিও বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যে গাজী নজরুল ইসলামকে নির্দোষ দাবি করা হয়। তবে এতেও শেষ রক্ষা হল না গাজী নজরুলের।
দলীয় এমপিকে নিয়ে নানা সমালোচনার পর গতকাল বুধবার নির্বাহী পরিষদের বৈঠক ডাকে জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মিন্টু রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৈঠকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়।
সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘সদস্য পদ বাতিল হলে সংগঠনে সে থেকে যাবে, কাজ করতে পারবে। আর বহিষ্কার মানে সংগঠন থেকেই বহিষ্কার।’