বাংলা কিউআর হবে গেম চেঞ্জার

দেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়াতে এবং ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়তে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘নগদ’। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে তাদের সব প্রোপ্রাইটারি কিউআর কোডের পরিবর্তে বাংলা কিউআর চালু করেছে। নগদের হেড অব মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন জাহিদুল ইসলাম মনে করেন, একটি কিউআর কোডের মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থিক সেবার গ্রাহকদের পেমেন্টের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রাহক, সেবার জন্য লেনদেন আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে। বাংলা কিউআর নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ সব কথা বলেন তিনি।

বাংলা কিউআর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে?

জাহিদুল ইসলাম : দেশে ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলা কিউআরের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে যেকোনো আর্থিক সেবার গ্রাহক যেকোনো বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন। ফলে ব্যাংক, এমএফএসসহ অন্যান্য আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সমান ও সমন্বিত সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদেরও এখন একাধিক অ্যাকাউন্ট বা আলাদা আলাদা পেমেন্ট ব্যবস্থা সচল রাখার প্রয়োজন হবে না। আমরা মনে করি, ক্যাশলেস সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর একটি গেম চেঞ্জারের ভূমিকা পালন করবে।

বাংলা কিউআর চালু হলে নগদের গ্রাহক ও মার্চেন্টরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন?

জাহিদুল ইসলাম : বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই নগদ গ্রাহকদের জন্য বাংলা কিউআর সুবিধা চালু করেছে। পাশাপাশি অন্যান্য আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও বাংলা কিউআর সুবিধা চালু করায় নগদের গ্রাহকরা বর্তমানে দেশে চালু থাকা অন্তত ১০ লাখ বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারছেন। এটি বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অভাবনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাংলা কিউআর জনপ্রিয় করতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে?

জাহিদুল ইসলাম : ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলা কিউআর চালুর অন্যতম বড় সুবিধা হলো, মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা অপারেটর কমিশনকে বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। আগে এ ক্ষেত্রে কিছুটা বিক্ষিপ্ত পরিস্থিতি ছিল। নতুন ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবসায়ীদের কমিশন ব্যয় কমেছে। পাশাপাশি একটি কিউআর কোড ব্যবহার করেই যেহেতু বিভিন্ন অপারেটরের গ্রাহক পেমেন্ট করতে পারছেন, তাই ব্যবসায়ীদের আর একাধিক কিউআর কোড রাখার প্রয়োজন হচ্ছে না।

এতে ব্যবসায়ীদের দরকষাকষির ক্ষমতাও অনেক বেড়েছে। আগে একজন ব্যবসায়ীকে একাধিক অপারেটরের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড রাখতে হতো। এখন একটি বাংলা কিউআর কোড দিয়েই পুরো কাজ পরিচালনা করা সম্ভব। ফলে যে অপারেটর ব্যবসায়ীকে তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেবে, ব্যবসায়ী স্বাভাবিকভাবেই সেই অপারেটরের সেবা গ্রহণে আগ্রহী হবেন। এসব সুবিধা ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলা কিউআর ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে।

বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে নগদের বর্তমান অগ্রগতি কী?

জাহিদুল ইসলাম : নির্ধারিত সময়ের আগেই নগদ বাংলা কিউআর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে থাকা নগদের সব প্রোপ্রাইটারি কিউআর কোড শুরুতেই পরিবর্তন করে সেখানে বাংলা কিউআর প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আমাদের অগ্রাধিকার হলো, বর্তমানে বাংলা কিউআর নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ীকে এই নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা।

বাংলা কিউআরকে সফল করতে নগদ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন?

জাহিদুল ইসলাম : বাংলা কিউআর সফল করতে নগদ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ী, উভয় পক্ষকে সচেতন করার ওপর। বাংলা কিউআর কীভাবে আমাদের আর্থসামাজিক কাঠামো ও লেনদেনের সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, সে বিষয়ে গ্রাহকদের সচেতন করে তোলাই আমরা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করি। এ লক্ষ্যে উন্মুক্ত জায়গায় সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি রোড শো, গণমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে বাংলা কিউআরের সুবিধা তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও কার্যকরভাবে ব্যবহার করে গ্রাহকদের সচেতন করা হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ী, উভয় পক্ষের জন্যই আরও আকর্ষণীয় ও চমকপ্রদ বিভিন্ন ক্যাম্পেন নিয়ে আসবে নগদ। আমরা বিশ্বাস করি, ব্যাপক জনসচেতনতা এবং সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করা গেলে বাংলা কিউআর দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।