হাতহাতির ঘটনায় ক্ষমাপ্রার্থী আর্জেন্টিনার সহ-কোচ আয়ালা

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ডানি ওলমোর সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা। নিউ জার্সির ফাইনালে স্পেনের ১-০ ব্যবধানের জয়ের পর মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়া চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর এ বিষয়ে মুখ খুললেন এই সাবেক আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার।

ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে জয় পায় স্পেন। ম্যাচ চলাকালে লাল কার্ড দেখে এঞ্জো ফার্নান্দেজ মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের পুরো সময়জুড়ে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের রেকর্ড ১১টি সেভ আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেও শেষ রক্ষা হয়নি। অনসাইড এবং অফসাইড উভয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে খেলা শেষের সাথে সাথেই দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

রেডিও সাক্ষাৎকারে আয়ালা স্বীকার করেন যে, উত্তেজনার মুহূর্তে নিজের আবেগকে ধরে রাখতে না পারাটা তার ভুল ছিল। তিনি জানান, "যা ঘটেছে তার জন্য অবশ্যই আমি অনুতপ্ত। আমার মতো অবস্থানে থেকে প্রতিপক্ষের উসকানিতে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা বা নিজের মেজাজ নষ্ট করা একেবারেই উচিত হয়নি।"

ওলমোর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আয়ালা যোগ করেন, "বিষয়টিকে যতটা বড় করে 'ঘুষি' হিসেবে দেখানো হচ্ছে, এটি তেমন কিছু ছিল না; এটি কেবল একটি ধাক্কাধাক্কি ছিল। ওলমোর একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ঘটনাটি ঘটে। তবে এটি কোনো অজুহাত হতে পারে না। পরবর্তীতে ডানি ওলমোর মুখোমুখি হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব।"

ম্যাচ শেষের ওই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে কেবল আয়ালাই ছিলেন না; সেখানে আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেসও জড়িয়ে পড়েন। টেলিভিশনের ফুটেজে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার সাথেও তাদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হতে দেখা যায়।

ফিফা ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং তাদের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নীতিবিষয়ক কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে জড়িত খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন, পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকেও (এএফএ) বড় অংকের আর্থিক জরিমানা করা হতে পারে।