শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডির বিচার দাবি ছাত্রপক্ষের

শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডির সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তা, তৎকালীন শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত ছাত্রদল নেত্রীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

সংগঠনটি জানায়, ২০০২ সালের শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডির বিচারহীনতা দেশের শিক্ষাঙ্গনে দমন-পীড়নের সংস্কৃতিকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডির ২৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ জিহাদ ও সদস্য সচিব জুবায়ের হাসিব স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ২৩ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের একটি কালো ও কলঙ্কময় দিন। ২০০২ সালের এই দিনে শামসুন্নাহার হলে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত পুলিশি অভিযান, হামলা ও লাঞ্ছনা ছিল রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারের জঘন্য দৃষ্টান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নারীর মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। তাদের দাবি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর এটি নারী শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত সবচেয়ে বড় নির্যাতনের ঘটনা।

ছাত্রপক্ষের নেতারা বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার না হওয়া বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই শক্তিশালী করেছে। ক্ষমতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় শিক্ষাঙ্গনে দমন-পীড়নের সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, প্রশাসনিক পদ কিংবা ক্ষমতার প্রভাব আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। তাই শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডির ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য, তৎকালীন শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ছাত্রদল নেত্রীদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ছাত্রপক্ষ চার দফা দাবি জানিয়ে বলেছে, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্য উদঘাটন, দোষীদের বিচার, ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ, রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহার রোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও ক্যাম্পাস চার্টার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ইতিহাসকে চাপা দিয়ে নয়, সত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই দাবি অব্যাহত থাকবে।