শ্রাবণের শুরু থেকেই স্বাভাবিক নিয়মেই বৃষ্টি ও রোদের দেখা মিলছে। বর্ষা মৌসুমের এই ধারাবাহিকতা নিয়েই শুরু হয়েছে শ্রাবণের দ্বিতীয় সপ্তাহ। তবে ১৫-২০ দিন আগের অতিবৃষ্টি মাঠে থাকা ফসলের যে ক্ষতি করে গেছে তার ক্ষত এখন ঝলমলে রোদের মতোই স্পষ্ট। কৃষকের মাঠে থাকা ফসল নষ্ট হয়েছে, কমে গেছে সবজির সরবরাহ। ফলে মাসখানেক আগেও সবজির বাজারে যতটা স্বস্তি ছিল, এখন ঠিক ততটাই অস্বস্তি। কারণ একমাত্র পেঁপে ছাড়া ৮০ টাকার কমে কোনো সবজি মিলছে না। কষ্ট বেড়েছে ভোক্তার।
বৃহস্পতিবার ঢাকার কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একমাত্র সবজি কাঁচা পেঁপে। দাম বাজারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। তাছাড়া এই টাকায় আর কোনো সবজি নেই। ঢেঁড়সের দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় নেমেছিল। এখন এটা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া ছোট পটোলের দামেও ছিল স্বস্তি, এখন নেই। গ্রীষ্মকালের এই সবজিটি এখন কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে।
৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরের ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল এখন ৮০ টাকায় পাওয়া ভার। বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত দামে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেগুনের দাম। প্রতি কেজি বেগুন এখন আর ১০০ টাকার নিচে নেই। লম্বা জাতের এক কেজি বেগুনের কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা। তবে এই বেগুনের গায়ে যদি একটু দাগ থাকে বা বাছাই করা না হয় তাহলে ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে গোলাকৃতির সাদা ও কালো বেগুন এখন ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় উঠেছে।
মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টের রাইয়ান ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সবজি বিক্রেতা আয়েশা আক্তার বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরেই সবজির দাম বাড়তি। কারণ সরবরাহ কম। আমার মতো ছোট দোকানিরা এখন দাম বেশি হওয়ার কারণে বেশি করে সবজি কিনতে পারে না। অন্যদিকে সরবরাহও কমে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘দাম বেশি হওয়ায় মানুষও কেনা কমিয়ে দিয়েছে।’
জানা গেছে, ছোট করলার দাম নেমেছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে, ভ্যানগাড়ি থেকে কিনলে আরও খানিকটা কমে পাওয়া যেত। এখন এটা ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হওয়া বরবটি কিনতে হলে ১১০ থেকে ১২০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। কচুরমুখির দামও উঠেছে ৯০ টাকায়।
শসার দাম চড়া থেকে আরও চড়েছে। প্রতি কেজি এখন ১৬০ টাকা বা তারও বেশি। এক আঁটি শাক কিনতেও খরচ বেড়েছে। ১৫ থেকে ২০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হওয়া লাল শাক, কলমি শাক এখন ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া একেকটি দেশি জাতের লাউ এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এর মধ্যেই আবার নতুন সংকট তৈরি হয়েছে কাঁচা মরিচের দামে। অতিবৃষ্টির পর থেকেই প্রতি কেজি মরিচ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে দাম বেড়ে এখন কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা দামে। তবে কিছু দোকানে এখনো ২০০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ পাওয়া যাচ্ছে, তবে সেটা খুব জায়গাতেই দেখা গেছে।
রামপুরা বাজারে সবজি কেনার সময় রফিকুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বিক্রেতার সঙ্গে তর্ক করছিলেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন যেভাবে বিক্রেতারা সবজির দাম বাড়াচ্ছে, আমাদের আয় কি সেভাবে বাড়ছে? ভালো মানের বেগুনসহ সবজি কিনলে দুইশ টাকায় দেড় কেজির বেশি সবজি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। যে আমার ৫ জনের সংসারে চার বেলার খাবারেই টানাটানিতে পড়ে।’
কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ের অতিবৃষ্টি ও এর কারণে তৈরি হওয়া বন্যা পরিস্থিতির কারণে সারা দেশের অন্তত ১ লাখ ১৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। যার একটা বড় অংশ সবজির জমি। এতে করে ঢাকায় সবজির সরবরাহ কমে গেছে এবং দামও বেড়েছে।
এদিকে ব্রয়লার মুরগির বাজার স্থিতিশীল থাকলেও ডিমের দাম খানিকটা বাড়তি। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়।