আপনার জিজ্ঞাসা

সন্তানের মন্দ নাম পরিবর্তন

দৈনন্দিন ইসলাম ডেস্ক

প্রশ্ন : আমার ছেলের নাম নাহিন মুনকার রুবাই। নাহিন মুনকার কখনো ডাকা হয় না। শুধু জন্ম সনদে আছে এই নাম। সাধারণত রুবাই নামে ডাকা হয়। কিছুদিন আগে এক খতিব সাহেব আমার ছেলের নাম জানতে চান। তখন নাম বলি। শুনে তিনি বলেন, ‘নাহিন’ ও ‘মুনকার’ আলাদাভাবে দুটি নামই নেতিবাচক অর্থ প্রদান করে। তাই এ নামে ডাকলে দুটি শব্দই একসঙ্গে বলতে হবে। আলাদা করে ডাকা যাবে না। তাহলে খারাপ প্রভাব পড়বে। তিনি আমাকে এই নাম বদলে ফেলার উপদেশ দেন এবং বলেন, এ জন্য নতুন করে আকিকা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বিষয়টি আমি ইসলামের আলোকে রেফারেন্সসহ জানতে চাচ্ছি।

রাসেল, ঢাকা

উত্তর : খতিব সাহেব সঠিক কথাই বলেছেন। ‘নাহিন’ অর্থ নিষেধকারী। ‘মুনকার’ অর্থ ঘৃণ্য কাজ, জঘন্য, অপরিচিত, প্রত্যাখ্যাত ইত্যাদি। যদি এই দুটি শব্দ একসঙ্গে ডাকা হয় তাহলে অর্থ হবে, ‘ঘৃণ্য কাজ নিষেধকারী’। এই দুই শব্দ একসঙ্গে ডাকার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আলাদা আলাদা শব্দে ডাকলে দুটি অর্থই নেতিবাচক হবে।

যদি আকিকা করে শিশুর নাম রাখা হয়, তবে আগের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম রাখা জায়েজ। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার আকিকা করার কোনো প্রয়োজন নেই।

যদি কোনো শিশুর নাম খারাপ বা অর্থহীন হয় কিংবা এমন নাম হয় যা শরিয়তের রুচিবোধের পরিপন্থী, তবে সেই নাম পরিবর্তন করা সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) অনেক সাহাবির নাম পরিবর্তন করে দিয়েছেন, যাদের আগের নামের অর্থ খারাপ ছিল।

সন্তানের সুন্দর ও ভালো অর্থবোধক নাম রাখা মা-বাবার অন্যতম দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন তোমাদের ডাকা হবে তোমাদের নিজ নাম ও পিতার নামে। অতএব তোমরা ভালো নাম রাখবে।’ (সুনানে আবু দাউদ ৪৯৪৮) অর্থাৎ ‘অমুকের ছেলে অমুক’ বলে ডাকা হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশ কয়েক ধরনের নাম রাখতে উৎসাহিত করেছেন। যেমন আল্লাহর দাসত্ব প্রকাশ পায় এমন নাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় নাম আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।’ রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘তোমরা নবীদের নামে নাম রাখো।’

এ ছাড়া সাহাবিদের নামে নাম রাখাও ভালো। বিশেষ করে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত

সাহাবিদের নাম।

তথ্যসূত্র : জামে তিরমিজি ২৮৩৯, সহিহ বুখারি ৬১৯২, সহিহ মুসলিম ২১৩৯, সহিহ মুসলিম ২১৩২, ফয়জুল কাদির শরহে আল-জামিউস সাগির ৪৭১৭