জ্ঞানার্জনের স্থায়ী মাধ্যম

জ্ঞানার্জন করা মুমিনের অন্যতম প্রধান গুণ। জ্ঞানার্জনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্থায়ী মাধ্যম হলো বই ও পাঠাগার। ইসলামের প্রথম ওহিই এসেছে ‘পড়–ন’ নির্দেশ নিয়ে, যা মুমিনের জীবনে বই বা পাঠাগারের গুরুত্বকে ঐশী নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠিত করে।

এই বিষয়টি প্রমাণ করে, ইসলাম জ্ঞান ও পাঠচর্চাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান?’ (সুরা জুমার ৯) আনাস ইবনে মালেক (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।’ (ইবনে মাজাহ)

পাঠাগার একজন মুমিনের জন্য আত্মশুদ্ধি, চিন্তার বিকাশ ও সঠিক দিকনির্দেশনার কেন্দ্র। কোরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকহ, সিরাত, ইসলামের ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সমসাময়িক জ্ঞানভিত্তিক বই পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের ইমানকে দৃঢ় করতে পারেন এবং জীবনের নানা সমস্যার সমাধান খুঁজে পান। ইসলামের ইতিহাসে পাঠাগারের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে। আব্বাসীয় যুগে বাগদাদের বাইতুল হিকমা ছিল বিশে^র অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানকেন্দ্র। সেখানে মুসলিম মনীষীরা গবেষণা, অনুবাদ ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। এই ঐতিহ্যই প্রমাণ করে, মুসলিম সভ্যতার উন্নতির অন্যতম ভিত্তি ছিল পাঠাগার ও জ্ঞানচর্চা।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে পাঠাগারের ধারণাও বিস্তৃত হয়েছে। প্রচলিত গ্রন্থাগারের পাশাপাশি ডিজিটাল লাইব্রেরি, ই-বুক এবং অনলাইন গবেষণাসামগ্রী জ্ঞানার্জনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে তথ্যের ভিড়ে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য উৎস নির্বাচন করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

প্রতিটি পরিবারে একটি ছোট্ট ইসলামিক ও সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক পাঠাগার গড়ে তোলা সময়ের দাবি। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোও পাঠাগার প্রতিষ্ঠা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।