ভোলায় ধর্ষণ মামলার পর তদন্ত দাবিতে স্কুলে বিক্ষোভ

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর পর ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের মুক্তি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধনের পর বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে সংসদ সদস্য তাদের সঙ্গে কথা বলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আশ্বাস দেন।

এর আগে বুধবার শিশুটির দাদা বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনকে প্রধান আসামি এবং স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাচ্চুকে সহযোগী আসামি করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই স্কুল ছুটির পর প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু ভুক্তভোগী পরিবারকে টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের একটি অংশ বলছেন, বিদ্যালয়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাদের দাবি, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দেওয়া দুধের প্যাকেট নিয়ে বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।

অভিযোগ অনুযায়ী, এক শিক্ষার্থী নির্ধারিত এক প্যাকেটের পরিবর্তে দুটি দুধের প্যাকেট নেওয়ায় প্রধান শিক্ষক তাকে শাসন করেন। এর জের ধরেই পরদিন প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এবং পরে ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া সত্য বেরিয়ে আসবে না। তারা প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনাটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, তাদের সন্তান যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তারা কোনো ধরনের আপস চান না; সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, প্রধান শিক্ষক আহত হওয়ার বিষয়টি তার জানা আছে। একই সঙ্গে ধর্ষণের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কোনো তথ্য বা ঘটনার সূত্র পাওয়া গেলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।

ধর্ষণের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের গ্রেপ্তার, এরপর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ-সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন বোরহানউদ্দিনজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।