সন্তানের জন্য কুকুরেয়ার বিশেষ নিবেদন

বিশ্ব ফুটবলে মার্ক কুকুরেয়ার কোঁকড়ানো চুল এখন অন্যতম পরিচিত এক দৃশ্য। তবে এটি কেবল তার কোনো ফ্যাশন স্টেটমেন্ট বা সিগনেচার লুক নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে একজন বাবার বুকভরা ভালোবাসা ও সন্তানের প্রতি এক নিঃশর্ত প্রতিশ্রুতি। ফাইনালে ওঠার লড়াই কিংবা বড় কোনো ম্যাচের চাপে কোথাও চুল বাঁধতে দেখা যায় না এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডারকে। কিন্তু কেন এই ভিন্ন অভ্যাস? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তার বড় ছেলে মাতেওর সঙ্গে জড়িত এক আবেগী অধ্যায়ে।

জানা গেছে, কুকুরেয়ার বড় ছেলে মাতেও অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত। মাঠে হাজারো খেলোয়াড়ের ভিড়ে বাবাকে যেন সহজে চিনতে পারে এবং নিমিষেই খুঁজে নিতে পারে, সে জন্যই চুলগুলো সবসময় খোলা রাখেন এই তারকা। ফুটবলের জাঁকজমকপূর্ণ দুনিয়া থেকে দূরে এটি এক বাবার অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও হৃদয়স্পর্শী এক সিদ্ধান্ত।

মাঠে কুকুরেয়ার পারফরম্যান্স যেমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনে তার ও তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ক্লদিয়া রদ্রিগেজের পথচলাটা সহজ ছিল না। অ্যামাজনের একটি ডকুমেন্টারিতে সেই কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে ক্লদিয়া জানান, মাতেওর বয়স যখন চার বছর, তখন তারা লক্ষ্য করেন যে সে অন্য শিশুদের থেকে কিছুটা আলাদাভাবে বিকাশ লাভ করছে। স্কুল থেকেও সেভাবে সহযোগিতা না পাওয়ায় জীবনের সেই মাসগুলো তাদের জন্য চরম মানসিক যন্ত্রণার ছিল। গর্ভাবস্থার কঠিন সময়েও প্রতিদিন ছেলেকে স্কুলে দিয়ে ফেরার পথে কেঁদেছেন ক্লদিয়া। রুটিন পরিবর্তন, ভিন্ন পরিবেশ কিংবা নতুন কোনো খাবারে মাতেওর খাপ খাইয়ে নিতে কতটা কষ্ট হয়, সে কথাও জানান তিনি।

সন্তানের এই রোগ সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলতে গিয়ে কুকুরেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ঠিক আছে, আপনার সন্তান অটিজম আক্রান্ত; কিন্তু বাবা-মা হিসেবে আমরা এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। তাই আমাদেরও অনেক কিছু শিখতে হয়েছে।’ বর্তমানের ব্যস্ততা, ছুটির পরিকল্পনা বা দৈনন্দিন রুটিন, সবকিছুতেই কুকুরেয়ার কাছে সবার আগে থাকে মাতেওর স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি।

ব্রাইটন ও চেলসি হয়ে বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদে খেলা কুকুরেয়ার এই দীর্ঘ যাত্রায় পাশে থেকেছেন ক্লদিয়া। মাতেও, রিও ও বেলা এই তিন সন্তানকে নিয়ে গড়া তাদের সাজানো সংসার। মাঠের বাইরে যখনই বড় কোনো চাপ বা চ্যালেঞ্জ আসে, তখন এই পরিবারই কুকুরেয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি। বড় মঞ্চে খেলার চাপ বা ট্রফির চাকচিক্যের চেয়েও একজন বাবার কাছে ছেলের মুখে হাসি ফোটানোই যে সবচেয়ে বড় অর্জন, কুকুরেয়ার এই গল্পটি তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।