ড্রোন প্রদর্শনীতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, কিয়েভে নিহত ১০

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে আয়োজিত একটি ড্রোন প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার বিভিন্ন হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৫ জনে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দিনদুপুরে আয়োজিত ওই প্রদর্শনীতে হামলা চালানো হয়। এতে প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় স্লোভিয়ানস্ক শহরে রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, ইউক্রেনও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও (৬০০ মাইল) বেশি গভীরে রাশিয়ার কিরোভ শহরে ইউক্রেনের এক রাতের হামলায় ছয়জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান 'ওয়াইল্ডবেরিজ'-এর গুদামগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

কিয়েভের কাছে এই হামলার পরপরই ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত লিউবা শিপোভিচ এবং ‘ফ্ল্যাশ’ নামে পরিচিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনভের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে উভয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান যে তারা সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। বেসক্রেস্তনভ জানান, নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি উক্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, প্রদর্শনী লক্ষ্য করে রাশিয়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যার মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে এই নিয়ে অন্তত তৃতীয়বারের মতো এ ধরনের প্রযুক্তি প্রদর্শনী হামলার শিকার হলো। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেন এই ধরনের একটি সর্বজনীন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলো এবং ব্যাপকভাবে প্রচার চালানো হলো, তা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটির তদন্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রোসিকিউটর জেনারেল জানান, কার সিদ্ধান্তে এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল এবং সেখানে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে কাজ চলছে।

রাশিয়ার কিরোভ শহরের একটি কারখানা এবং উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার গুদামগুলোতে ইউক্রেনের হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই কিয়েভে রাশিয়া এই পাল্টা আঘাত হানে। জেলেনস্কির মতে, কিরোভের যে স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, সেটি ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রতিষ্ঠান ছিল।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সেন্ট পিটার্সবার্গ এলাকায় 'ওয়াইল্ডবেরিজ'-এর অন্তত দুটি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, যা গত এক সপ্তাহের ধারাবাহিক হামলার অংশ। এই ই-কমার্স জায়ান্টের ওপর হামলার ফলে রাশিয়ার প্রচুর ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন তেল ডিপো ও শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানোর পর কিয়েভ এখন জানাচ্ছে যে তারা রাশিয়ার রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা বা লজিস্টিক হাবগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ওয়াইল্ডবেরিজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম কেনা সম্ভব হওয়ায় রুশ বাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দিতেই এসব স্থানে আঘাত হানা হচ্ছে।

এদিকে ইউক্রেন পরিস্থিতির উত্তাপ ছড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশেও। রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকোসর দান জানিয়েছেন, শুক্রবার তাঁর দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় একটি রোমানিয়ান এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রাশিয়ার একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর আগে রোমানিয়া কর্তৃপক্ষ দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করেছিল।

সূত্র: বিসিসি