চীন বা রাশিয়া- কোনো দেশই কোনো অবস্থাতেই ইরানকে কোনো ধরনের অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রয় করবে না বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বাস দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিজেই এ দাবি করেছেন।
ট্রাম্প জানান, বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক এক বৈঠকে এই বিষয়ে কথা হয়। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, চীনের বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আমাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি কোনো অবস্থাতেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে কোনো অস্ত্র দেবেন না বা বিক্রি করবেন না। এই প্রতিশ্রুতির মধ্যে চীনের সাধারণ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যকার সম্পর্ক ও পারস্পরিক বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তিনি শি জিনপিংয়ের এই প্রতিশ্রুতির ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখছেন।
শুধু চীন নয়, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পকে একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। ট্রাম্প বলেন, একইভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনও আমাকে বলেছেন যে, তিনি ইরানকে কোনো অস্ত্র বিক্রি করবেন না।
পোস্টে ইউক্রেন সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সরাসরি কোনো অস্ত্র বিক্রি করে না। বরং ন্যাটোভুক্ত (ন্যাটো) দেশগুলোর কাছে অস্ত্র সরবরাহ করে এবং তারা সেগুলোর পুরো মূল্য পরিশোধ করে কেনে। সেই অস্ত্র পরবর্তীতে কীভাবে কোথায় পাঠানো হয়, তা তাঁর জানা নেই।
ট্রাম্প বলেন, তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে সরাসরি অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোর কাছে বিক্রি করি। তারা পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করে এবং এই অস্ত্রগুলো পরে কীভাবে বণ্টন করা হয়, তা আমার জানা নেই।
দুই শীর্ষ নেতার আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়া জড়িত নেই। তবে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি যোগ করেন, যদি তারা এমনটি করে, তবে তা তাদের জন্য খুব খারাপ হবে—নিশ্চিতভাবেই এটি তাদের স্বার্থের অনুকূলে যাবে না।
তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে বেইজিং বা মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।