পেপ গার্দিওলা ইতালির জাতীয় দলের কোচের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করার পর, আজ্সুর্রিদের (ইতালি জাতীয় দল) পুনর্গঠনে সাবেক বিশ্বকাপজয়ী তারকা মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়া পিরলো-কেই প্রধান কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে দেশটির নতুন ফুটবল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের নতুন কারিগরি পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সাবেক কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি এবং লিওনার্দো শুরু থেকেই এমন একজন কোচ খুঁজছিলেন, যাঁর খেলার দর্শন তাঁদের চিন্তাভাবনার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
আন্তোনিও কোন্তে বা রবের্তো মানচিনির মতো অভিজ্ঞ ও মেজাজি কোচদের পরিবর্তে তরুণ, আধুনিক ফুটবল ভাবাপন্ন এবং দিকনির্দেশনা গ্রহণে ইচ্ছুক কাউকে প্রাধান্য দিয়েছেন মালদিনি।
কোচ হিসেবে পিরলোর পূর্ববর্তী ট্র্যাক রেকর্ড খুব একটা চমকপ্রদ না হলেও, মালদিনি সবসময় পিরলোর অসাধারণ 'ফুটবল ভিশন'-এর ওপর আস্থা রেখেছেন। দলের ড্রেসিংরুম সামলানোর ক্ষেত্রেও পিরলোকে সব ধরনের প্রশাসনিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
পিরলোকে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে মালদিনির রূপরেখা অনুযায়ী এটি ইতালি ফুটবলের ৮-১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ।
আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, সাবেক কোচ রবের্তো মানচিনির প্রস্তাবিত ২০ লাখ ইউরো বেতনের তুলনায় পিরলোর চুক্তি হতে যাচ্ছে কিছুটা কম বাজেটের। তার বার্ষিক নেতন হবে ১৫ লাখ ইউরো |
সাফল্য ও ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বেতন বাড়ানোর পারফরম্যান্স বোনাস শর্ত যুক্ত থাকবে। |
- ২০০৬ বিশ্বকাপ জয়: পিরলোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয়। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলার জন্য তিনি 'ব্রোঞ্জ বল' (টুর্নামেন্টের তৃতীয় সেরা খেলোয়াড়) এবং ফাইনালে 'ম্যান অব দ্য ম্যাচ' নির্বাচিত হন।
- ইউরো ২০১২ রানার্স-আপ: ২০১২ সালের উয়েফা ইউরো কাপে ইতালিকে ফাইনালে তুলতে তিনি প্রধান ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর নেওয়া 'পানেনকা' পেনাল্টি কিকটি ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
- অন্যান্য আসর: তিনি ইতালি দলের হয়ে মোট ৩টি বিশ্বকাপ (২০০৬, ২০১০, ২০১৪) এবং ৩টি ইউরো কাপে (২০০৪, ২০০৮, ২০১২) অংশ নেন। ২০১৫ সালে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন।
পিরলোর কোচিং ক্যারিয়ার
আন্দ্রেয়া পিরলো ২০২০ সালে য্যুভেন্টাসের হয়ে কোচিং শুরু করে প্রথম মৌসুমেই কোপা ইতালিয়া ও সুপারকোপা জেতেন। পরে তুরস্কের ফাতিহ কারাগুমরুক, ইতালির সাম্পদোরিয়া এবং দুবাইয়ের ইউনাইটেড এফসি-র ডাগআউট সামলান।