পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতা সাত শিক্ষককে বদলি

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার মধ্যে চরম অব্যবস্থাপনায় এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার পর কলেজের উপাধ্যক্ষসহ সাত শিক্ষককে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃত শিক্ষকদের কক্সবাজার, নোয়াখালী, সিলেট, বরগুনাসহ দেশের দূরবর্তী বিভিন্ন সরকারি কলেজে পদায়ন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের (সরকারি কলেজ-২ শাখা) উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশের বিষয়টি জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় একই দিন অপরাহ্ন থেকে তারা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। বদলিকৃত শিক্ষকরা হলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ একেএম জহিরুল আলম, গণিত বিভাগের অধ্যাপক আবদুল মালেক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিন এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন।

জানা যায়, গত ১৩ জুলাই সকালে মুষলধারায় বৃষ্টির কারণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন রাস্তায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সেদিন এই কেন্দ্রে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ১ হাজার ৩০৯ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ছিল। পরিস্থিতির সুরাহা না হওয়ায় কোমর পানি পেরিয়ে, কোথাও কোথাও নৌকা ও ভ্যানগাড়িতে করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়।

এ বিষয় জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ আমেনা বেগম বলেন, ‘আমি গত বুধবার কলেজে যোগ দিয়েছি। পরের দিন বিকেলে বদলির আদেশ সম্পর্কে জানতে পারি। বদলির কারণ নিয়ে বিস্তারিত বলতে না পারলেও ভবিষ্যতে যাতে কেন্দ্রে এমন জলাবদ্ধতা না হয়, সেই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের বদলি-সংক্রান্ত আদেশে পরীক্ষাকেন্দ্রের অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ নেই। প্রশাসনিক কারণে এমন বদলি সচরাচর হয়ে থাকে। এই বদলির পেছনে জলাবদ্ধতার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা আমার জানা নেই।’