ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ, দেবে গেছে ব্লক

উত্তাল সাগরের অব্যাহত ঢেউয়ের আঘাতে কুয়াকাটা শহররক্ষা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের বাইরের ঢালের (সেøাপ) সুরক্ষায় স্থাপিত অসংখ্য কংক্রিটের ব্লক দেবে গেছে। কোথাও কোথাও ব্লকগুলো স্থানচ্যুত হওয়ায় মূল বেড়িবাঁধটি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে মিরাবাড়ি থেকে মাঝিবাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বাঁধটির এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখা গেছে।

জানা গেছে, ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে স্থাপিত এসব কংক্রিটের ব্লকই উত্তাল ঢেউ থেকে বেড়িবাঁধ রক্ষার প্রধান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় নদীমুখী (রিভার সাইড) অংশে ব্লক স্থাপন করে কুয়াকাটা পৌর এলাকা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে অন্তত ৫০০ মিটার এলাকায় অসংখ্য স্থানে ব্লক স্থানচ্যুত হয়েছে। কোথাও ব্লক দেবে গেছে, আবার কোথাও নিচের বালু ও মাটি সরে গিয়ে ব্লকের মাঝে বড় ধরনের ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ১৫ দিনের টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। জোয়ারের সময় প্রবল ঢেউ সরাসরি ব্লকের ওপর আঘাত হানায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মিরাবাড়ি থেকে মাঝিবাড়ি পর্যন্ত শহররক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশে ব্লক দেবে যাওয়া ও স্থানচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে হোটেল-মোটেল মালিক, বিনিয়োগকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় জেলে ছোবাহান বলেন, পাঁচ-ছয় বছর আগে ব্লকগুলো বসানো হয়েছিল। তখন অল্প এলাকায় ঢেউ লাগত। এখন প্রায় পুরো বাঁধজুড়েই ঢেউ আঘাত করছে। অনেক ব্লক সরে গেছে, কিছু বালুর নিচে ঢুকে গেছে। নিচ দিয়ে সুরঙ্গ তৈরি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাঁধের বর্তমান অবস্থা ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মোতালেব শরীফ বলেন, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ব্লকগুলো পুনঃস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি সৈকত ও শহর রক্ষায় একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি।

পর্যটক অভি রহমান বলেন, এত সুন্দর একটি পর্যটন এলাকা রক্ষায় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সংস্কার কাজ শুরু করা দরকার। পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কুয়াকাটার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও দেবে যাওয়া ব্লকসংলগ্ন অন্তত ৩৫০ মিটার এলাকায় জিওটিউব স্থাপনের কাজ শুরু হবে। এতে ঢেউয়ের সরাসরি আঘাত থেকে ব্লকগুলোকে সাময়িক সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।