চুরি করার শাস্তি ১০০ রাকাত নফল নামাজ!

ভোলার লালমোহনে দুটি রাজহাঁস চুরির অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়। স্থানীয়রা তাকে শাস্তি হিসেবে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করায়। পরে তওবা করিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কিশোরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই যুবকের নাম মো. নাজিম (২৫)। তিনি লালমোহন পৌরসভার নয়ানী গ্রামের পাকার মাথা এলাকার বুলু হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে এলাকায় হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা সতর্ক ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে জয়নাল আরিন্দা বাড়ির বাসিন্দা মো. এমরান হোসেন রাকিবের লালন-পালন করা দুটি রাজহাঁস চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা মো. নাজিমকে ধাওয়া দিয়ে হাঁসসহ আটক করে। স্থানীয়দের সামনে নাজিম নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর কখনো চুরি করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। পরে এলাকাবাসী তাকে মারধর বা পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করান। একই সঙ্গে তওবা করিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় ছেড়ে দেন। রাজহাঁসের মালিক মো. এমরান হোসেন রাকিব বলেন, হাঁস দুটি তাদের পরিবারের অনেক শখের ছিল। স্থানীয়দের তৎপরতায় চুরি হওয়া হাঁস উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্তকে মারধর না করে ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি থানায় কেউ জানায়নি। রাতে এলাকায় নিয়মিত পুলিশের টহল চলছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।