ঘুষ না দেওয়ায় মামলা দিয়ে বৃক্ষপ্রেমীকে হয়রানি

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শাহাবাজপুর গ্রামের লুৎফর রহমান পেশায় ট্রাকচালক। তবে উপজেলাবাসী তাকে চেনেন বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে। নিজ উদ্যোগে রাস্তার ধারে, খালি জায়গা কিংবা সর্বসাধারণে ব্যবহার করে এমন জায়গায় ফলদ ও বনজ গাছের চারা লাগানো তার নেশা। ব্যতিক্রমী এই কাজের মানুষটি আজ বন বিভাগের মামলার বেড়াজালে পড়েছেন।

স্থানীয়রা বলেন, বন বিভাগের এক কর্মকর্তার চাহিদামতো ঘুষ না দেওয়ায় তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলায় তার কলেজপড়ুয়া দুই ছেলেকেও আসামি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানান, লুৎফর রহমান নিজ উদ্যোগে গত এক দশকে ৫ হাজারেরও বেশি গাছ লাগিয়েছেন এলাকায়। তাদের ভাষ্যমতে, দক্ষিণ শাহাবাজপুর মৌজার একটি খোলা জায়গা প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয়দের ফুটবল খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মাঠের চারপাশে কোনো ছায়াদার গাছ না থাকায় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া ২০টি আমগাছের চারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শে মাঠের পাশে রোপণ করেন লুৎফর। প্রায় তিন মাস পর তৎকালীন প্রয়াগপুর বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান লুৎফরকে অফিসে ডেকে বন বিভাগের জমিতে গাছ লাগানোর অভিযোগ তোলেন এবং বিষয়টি মীমাংসার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। লুৎফর ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে একই বছরের আগস্ট মাসে বদলির আগে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় লুৎফরকে প্রধান আসামি এবং তার কলেজপড়ুয়া দুই ছেলে হাসেন ও হোসেনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বন বিভাগের প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে থাকা চারা গাছ কেটে সেখানে ধান চাষ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে বিরামপুর বন বিভাগের চরকাই রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চার মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই আদালতেই এর নিষ্পত্তি হবে।’