ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ভাঙন গর্তে বেহাল

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে উঠেছে দুর্ভোগের অন্য নাম। অসুস্থ মানুষ তো বটেই সাধারণ মানুষও নাকাল এ পথে চলাচলে। কোথাও কোথাও উভয়মুখী লেনের দশ ফুটের ভেতরেই চোখে পড়বে অন্তত দশ থেকে পনেরটি বড় বড় গর্ত। কিছু গর্তে জোড়াতালির ইটের সলিংয়ের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট খানাখন্দ।

যত তাড়াই থাকুক মহাসড়কের ধীরে চলো নীতি মানতে তাই চালকরা বাধ্য। এ মহাসড়কে খানাখন্দে ভরপুর অংশগুলো সারাক্ষণ দুর্ঘটনার অপেক্ষায় যেন ওঁৎ পেতে আছে। ফলে নিয়মিতই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ভাঙাচোরা মহাসড়কে পথচারী, যানবাহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই। যা কয়েকগুণ বেড়ে যায় বৃষ্টি-বর্ষা মৌসুমে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধারাবাহিক সংস্কারকাজ না থাকাতেই মহাসড়কে এমন দুর্ভোগ।

রৌমারি থেকে ছেড়ে আসা সিয়াম পরিবহনের চালক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, এ মহাসড়কের শ্রীপুরের অংশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সড়ক ভাঙাচোরা থাকায় প্রচ- ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা বিরক্ত হন, আমাদের সঙ্গে প্রায়ই বাগ্বিত-া বাধে। এক ঘণ্টার পথ তিন ঘণ্টা লাগিয়ে পার হই। প্যাডেলের রিকশাচালক আলালউদ্দীন বলেন, বৃষ্টির দিনে পানিতে তলিয়ে যাওয়া গর্তে পরে প্রায়ই রিকশার চাকা বাঁকা হয়ে যায়। দুর্ঘটনা ঘটে, যাত্রীরাও কষ্ট করেন।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত যানজট তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক হোসেন বলেন, অনেকদিন থেকেই স্থায়ী সংস্কার নেই। আমরা মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত সাত কিলোমিটার অংশ চিহ্নিত করেছি।

এ অংশের স্থায়ী সংস্কারের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে দুই ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন এ মহাসড়কে অন্তত ২৫ হাজার ছোট-বড় গাড়ি চলাচল করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ছোট গর্ত সৃষ্টি হলেও তা গাড়ির চাপে দ্রুত বড় হতে থাকে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সংস্কারকাজ শুরু হবে।