শিমুলিয়ায় আন্তর্জাতিক মানের পোর্ট

অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে আন্তর্জাতিক মানের ইকো কনটেইনার পোর্ট নির্মাণের জোরালো ঘোষণা এসেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাঁচ উপদেষ্টার কাছ থেকে। সেই ঘোষণার এক বছর পার হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

গত বছরের ২২ জুন শিমুলিয়া ঘাটে বিআইডাব্লিউটিএর ড্রেজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে এক সভায় নৌপরিবহন, স্বরাষ্ট্র, পরিবেশ, শিল্প এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পাঁচ উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় জানানো হয়, বিআইডাব্লিউটিএর প্রায় ২৯ দশমিক ৩১ একর জমিতে প্রায় ৭৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্তর্জাতিক মানের ইকো কনটেইনার পোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক পর্যটন, রিভার মিউজিয়াম, ইকো রিসোর্ট, শিশু পার্ক এবং পুরোনো ফেরি ঘাটের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

তখন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক মানের কনটেইনার পোর্ট নির্মাণে সরকারই প্রধান অর্থায়ন করবে। পর্যটন অংশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সুযোগ রাখা হবে।

ওই ঘোষণার এক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি। প্রকল্প অনুমোদন, দরপত্র আহ্বান কিংবা বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা সেতু চালুর পর শিমুলিয়া ঘাটের অর্থনৈতিক কর্মকা- অনেকটাই কমে গেছে। আন্তর্জাতিক মানের পোর্ট নির্মিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং পর্যটন বিকাশের নতুন সুযোগ তৈরি হতো।

ঘাটের স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সুজন বলেন, সরকারের ঘোষণার পর তারা নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু এক বছরেও কাজ শুরু না হওয়ায় সেই আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রকল্পটির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাস্তবায়ন শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু লৌহজং নয়, সমগ্র মুন্সীগঞ্জ জেলার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা সভায় জানান, গত বছর আন্তর্জাতিক মানের পোর্ট নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো। তবে তৎকালীন বিআইডাব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মহোদয় প্রস্তাবনার পক্ষে অর্থাৎ আন্তজার্তিক মানের পোর্ট নির্মাণের কাজে রাজি হননি। তাই তখন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।