অনিয়ম দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর ফেসবুকে ইউএনওর চোটপাট

পঞ্চগড়ে সরকারি চাকরিজীবী হয়ে নিজেই ঠিকাদারির কাজ করার বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর রীতিমতো চোটপাট শুরু করেছেন বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম।

ফেসুবকে সংবাদের বিষয়টিকে ‘নোংরামি’ অ্যাখ্যায়িত করে এ নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে পোস্ট করেছেন ইউএনও রবিউল ইসলাম। প্রতিবেদকের চাকরি খেয়ে দিতে সম্পাদক বরাবর কথিত আবেদন ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। পোস্ট দিয়েছেন নিজের সাফাই গেয়ে কথিত প্রতিবাদ লিপির।

একজন ইউএনওর এমন কাণ্ড নিয়ে উপজেলা জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে।  প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হয়ে বিধি অনুযায়ী সামাজিক মাধ্যমে এমন প্রচারণা তিনি চালাতে পারেন কিনা, এমন প্রশ্নও দেখা দিয়েছে জনমনে। 

স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, ইউএনও তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দিতেই ফেসবুকে মামলা ও চাকুরিচ্যুত করার ভয়ভীতি দেখিয়ে সংবাদকর্মীদের টুঁটি চেপে ধরার চেষ্টা করছে। এ সংক্রান্ত নথিপত্র, উপজেলা প্রকৌশলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মিস্ত্রিদের কাছে থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ও ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী সংবাদটি প্রকাশ হয়েছে।

পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির  নিউজ করলে সংবাদকর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। ইউএনও'র বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গত ১৮ ও ১৯ জুলাই দৈনিক দেশরূপান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বোদা উপজেলা প্রশাসনের উন্নয়নমুলক কাজ টেন্ডার না দিয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলামের ঠিকাদারি করা সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হয়।