প্রশ্নফাঁসের প্রথম দিন থেকেই আমি দায় নিয়েছি: ধর্মেন্দ্র প্রধান

টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা এক খোলা চিঠিতে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ৩ মে অনুষ্ঠিত নীট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার প্রথম দিন থেকেই তিনি এর দায় স্বীকার করেছেন এবং কখনোই পরিস্থিতি এড়িয়ে যাননি। অভিযোগের পর সরকার তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইকে দেয়, পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে আগামী বছর থেকে কম্পিউটারভিত্তিক (সিবিটি) পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি জানান, সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সহযোগিতায় ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন প্রশ্নফাঁস চক্রের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করেছেন। তাঁর দাবি, ১৬ জুলাই প্রকাশিত ফলাফলে দরিদ্র পরিবারের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও সফল হয়েছে।

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির আচরণ তাঁকে ব্যথিত করেছে। তবে তিনি গণতন্ত্র, তরুণদের স্বপ্ন ও দেশের ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা রাখেন।

গত ১০ দিনের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ যেন বিভ্রান্ত না হয় এবং রাষ্ট্রবিরোধী কোনো শক্তি পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে আইনি জটিলতায় না পড়ে এবং তারা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে, সেটিও তাঁর সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন।

চিঠির শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সহকর্মী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশসেবাই তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যতেও তিনি সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাবেন।