পোশাক খাতের ভবিষ্যত প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এ খাতের কর্মীদের দক্ষতা স্তর ৩ ও ৪-এ উন্নীত করা জরুরি বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।
তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদের বিকল্প নেই। দেশের বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত হিসেবে পোশাক খাতকে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কর্মীদের দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে।’
শনিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের প্রদর্শনী হলে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘অ্যাসেট’ (অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণ) প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিজিএমইএ-উদ্যোগভিত্তিক প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালা ও সনদপত্র বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
দাউদ মিয়া বলেন, পোশাক খাতে দক্ষতা উন্নয়নে বিজিএমইএ ও অ্যাসেট প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে বিজিএমইএকে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে অ্যাসেট প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের নতুন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়িত অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় বিজিএমইএ পোশাক শিল্পে ‘উদ্যোগভিত্তিক প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিল্পের চাহিদাভিত্তিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
বিজিএমইএ ও অ্যাসেট প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত উদ্যোগভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত তিনটি ধাপে ১৯৩টি ব্যাচে মোট ৪ হাজার ৬৩২ জন প্রশিক্ষণার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ৯৭টি ব্যাচের ২ হাজার ৩২৮ জন প্রশিক্ষণার্থীকে অনুষ্ঠানে সনদপত্র দেওয়া হয়। বর্তমানে চতুর্থ ধাপের ৯৬টি ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাক খাতকে আরও দক্ষ ও আধুনিক করতে হবে। কারখানায় কর্মমুখী দক্ষতা বাড়াতে উদ্যোগভিত্তিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতিটি সফল প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, অ্যাসেট প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গঠনে সরকারের সহযোগিতার জন্য বিজিএমইএ কৃতজ্ঞ। বর্তমান পর্ষদ শুধু পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে না; বরং দক্ষ কর্মী তৈরি করে পণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কার্যক্রম উপযুক্ত নীতি-সহায়তা পেলে আরও বেগবান হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) সামসুর রহমান খান, অ্যাসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মীর জাহিদ হাসান এবং বিজিএমইএ ফ্যাশন ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিইউএফটি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী আইয়ুব নবী খান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন ভূঁইয়া এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিনিধিরা।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএর দক্ষতা উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন ভূঁইয়া। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুর রহমান খান, অ্যাসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান এবং বিইউএফটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী আইয়ুব নবী খান প্রমুখ।