‘একবারে চোখ তুইল্লা লমু’-ভিডিও বার্তায় এমপিকে হুমকি

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশ ও চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তারাকান্দা উপজেলার আটাদার এলাকার মৃত জব্বার আলীর ছেলে মো. সোহরাব হোসেন। ভিডিওতে তিনি সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেন। একই সঙ্গে বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের নামও উল্লেখ করেন।

ভিডিওতে সোহরাব হোসেনকে বলতে শোনা যায়, এমপি যদি আবার রাস্তায় নামেন বা তালুকদারকে নিয়ে কথা বলেন, তাহলে তার ‘চোখ তুলে ফেলবেন’ এবং ‘পরিণতি খারাপ হবে’। বক্তব্যজুড়ে অশ্রাব্য ভাষা ও উসকানিমূলক মন্তব্য রয়েছে।

সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, ভিডিওটি দেখার পর তিনি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে থানা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন। তার দাবি, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়াতেই এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভয় পাই না। তবে এ ধরনের ঘটনা সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই আইনের আশ্রয় নেওয়াই উচিত।’

ভিডিওতে নিজের নাম উল্লেখ হওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত বিরোধের ফল। একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে এমপির বিরোধ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মোতাহার জানান, ভিডিওটি প্রকাশের পর তিনি সোহরাব হোসেনকে সেটি মুছে ফেলতে বলেন এবং ব্যক্তিগত বিষয় ব্যক্তিগতভাবে সমাধানের পরামর্শ দেন। পরে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয় বলেও জানান তিনি।

অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় সম্পর্কে মোতাহার বলেন, সোহরাব হোসেনের দলের কোনো পদ নেই। সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাশিদ বলেন, পুলিশ ভাইরাল ভিডিওটি দেখেছে এবং বিষয়টি নজরে রয়েছে। এমপির প্রতিনিধিদের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সাইবার ট্রাইব্যুনালেও অভিযোগ করা যেতে পারে। জিডি হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।