চোটে জর্জর জাতীয় দল

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগে চোট যেন পিছুই ছাড়ছে না বাংলাদেশ দলকে। একদিকে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন ডানহাতি পেসার নাহিদ রানা, অন্যদিকে প্রথম টেস্টে অনিশ্চিত লিটন দাস ও শরিফুল ইসলাম। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্বিতীয় টেস্টে তাদের ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চোটে থাকা তানজিম হাসান সাকিবকেও সহসা জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাবে না। মোস্তাফিজুর রহমান ফিরতে পারেন আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা নাহিদকে ঘিরে। জিম্বাবুয়ে সফরে গত ১৭ জুলাই ম্যাচ চলাকালে বাঁ পাশের পেশিতে চোট পান এই ডানহাতি গতি তারকা। দেশে ফিরে করানো স্ক্যানে গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইন ধরা পড়ে তার। বিসিবির মেডিকেল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই চোট থেকে সেরে উঠতে প্রায় চার সপ্তাহ লাগবে। এরপর বল করার জন্য প্রস্তুত হতে আরও দুই থেকে চার সপ্তাহ চলে যাবে। সব মিলিয়ে ছয় থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে নাহিদকে। ফলে আগামী ১৩ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে তাকে পাবে না বাংলাদেশ দল।

অন্যদিকে, জিম্বাবুয়েতে খেলার সময় বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড-১ চোট পাওয়া শরিফুলের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আগামী ২৯ জুলাই থেকে তিনি বোলিং শুরু করবেন। ১২ আগস্টের দিকে তার ফিটনেস পরীক্ষা নেবে বিসিবি। অর্থাৎ প্রথম টেস্টে খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত পেলে ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টে ফিরতে পারেন এই বাঁহাতি পেসার।

একইভাবে দ্বিতীয় টেস্টকে লক্ষ্য করেই এগোচ্ছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাঁ পায়ের কাফ মাংসপেশিতে চোট পান তিনি। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। সেখানে শুক্রবার প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা (পিআরপি) চিকিৎসা নিয়েছেন লিটন। আগামী ২৮ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে দৌড় ও ফিটনেস অনুশীলন শুরু করবেন। শরিফুলের সঙ্গে তারও ফিটনেস পরীক্ষা হবে। পুনর্বাসন সফলভাবে শেষ হলে দ্বিতীয় টেস্টে ফিরতে পারেন তিনি।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চোটে থাকা সাকিবের ফেরার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সর্বশেষ স্ক্যান ও বিদেশি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, এখনো আট থেকে দশ সপ্তাহ পুনর্বাসন চালিয়ে যেতে হবে তাকে। এরপর আবার স্ক্যান করা হবে। হাড় জোড়া লাগার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে তার মাঠে ফেরার সময়। তবে আশার খবর রয়েছে মোস্তাফিজকে নিয়ে। ডান হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। চলতি মাসের শেষ দিকে তার ফিটনেস পরীক্ষা হবে।