গাজায় ইসরায়েলি হামলায় পুলিশপ্রধানসহ নিহত ৬

গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে হামাস-নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদেল-নাসের আল-মাকাদমা ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলি হামলায় আরও পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও চিকিৎসকরা।

শনিবার গাজা সিটির উত্তরে শেখ রাদওয়ান এলাকায় আল-মাকাদমাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। তিনি উত্তর গাজার গভর্নরের দায়িত্বও পালন করছিলেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তিনি হামাসের সামরিক শাখার সদস্যও ছিলেন।

এদিকে ইসরায়েলি হামলায় নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে এক ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া খান ইউনিসের একটি বাড়িতে হামলায় আরও দুইজন নিহত হন। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ওই বাড়িতে ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর এক সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল।

শনিবার পরে খান ইউনিসে আরেকটি বিমান হামলায় উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থী খালেদ আল-ব্রেইম নিহত হন। স্বজনরা জানান, উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া খালেদ বাড়িতে জড়ো হওয়া আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের জন্য মিষ্টি আনতে গিয়েছিলেন। তখনই তিনি হামলার শিকার হন।

এছাড়া গত সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় আহত এক পুলিশ সদস্য শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

গত কয়েক মাসে ইসরায়েল হামাস-নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্যকে হত্যা করেছে। ইসরায়েলের অভিযোগ, এসব পুলিশ সদস্যের অনেকেই হামাসের সামরিক শাখার সঙ্গে যুক্ত এবং তারা নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিলেন।

তবে হামাসের অভিযোগ, গাজার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা দুর্বল করতেই ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করছে। সংগঠনটি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আরও একটি লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে।

গত অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে হামাস। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১৮০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।