দলীয় কোন্দলে কাফরুলে যুবদলকর্মী ইউসুফ হত্যা

রাজধানীর কাফরুলে দলীয় কোন্দলের জের দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা পুলিশের। ওই ঘটনায় ভাসমান একজন সবজি ব্যবসায়ী ও একজন কাপড় ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। গুলির ঘটনায় কাফরুল থানায় একটি হত্যা ও একটি অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক অস্ত্রধারী চঞ্চল মোল্লাকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে টার্গেট করে সন্ত্রাসীরা।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে সি ব্লকে ওপেক্স গার্মেন্টসের পাশের লিংক রোডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী যুবদল কর্মী মামুন মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনাস্থলে প্রতিদিনকার মতো শুক্রবারও আড্ডা চলছিল। এ সময় পাঁচ-ছয় জন ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়। তারা কয়েকবার আমাদের আশপাশে ঘুরাফেরা করতে দেখে বাবু ভাইয়ের সন্দেহ হওয়ায় খোঁজখবর নিতে ইশারা দেন। পরে আমি ও ইউসুফসহ কয়েকজন তাদের কাছে গিয়ে পরিচয় জানতে চাওয়ামাত্রই এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও কাপড় বিক্রেতা মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছে। তাদের মধ্যে নালামের মাথার ডান পাশে ও মনিরের ডান পায়ে গুলি লাগে।

মামুন মিয়া আরও বলেন, শুনেছি গ্রেপ্তার শুটার চঞ্চল মোল্লাকে ঝিনাইদাহ থেকে ভাড়া করে আনছে কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিএনজিচালক হাফিজ। হাফিজের সঙ্গে বাবু ভাইয়ের কোনো শত্রুতা নেই। তবে তাকে যারা নেতা বানিয়েছে তারাই এটা করাতে পারেন। ঘটনার পর থেকে এলাকা ছাড়া হাফিজ। তাকে গ্রেপ্তারের পর প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

নিহত ইউসুফ আলীর বড় ভাই মাসুদ রানা গতকাল শনিবার কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার চঞ্চল মোল্লা, পলাতক জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুল মোল্লা ও হাসানসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। কাফরুল থানার অস্ত্র আইনের মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ আসামি চঞ্চলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

হত্যা মামলার এজাহারে নিহতের বড় ভাই বলেন, তার ছোট ভাই ইউসুফ আলী বিএনপির যুবদলের কর্মী ছিলেন। কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা তাদের সশস্ত্র হামলা চালায়। চঞ্চল মোল্লার করা গুলি ইউসুফের বুকের ডান পাশে লেগে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ইউসুফ মাটিতে পড়ে গেলে জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুল মোল্লা ও হাসান তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

যুবদল কর্মী মামুন মিয়া বলেন, শনিবার দুপুরের পর ময়নাতদন্ত শেষে ইউসুফের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে যুবদলের পক্ষ থেকে কাফরুলে তার জানাজার আয়োজন করা হয়। জানাজা শেষে বিক্ষোভ করে নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়। তাকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শাকরাল গ্রামে দাফন করা হবে।

কাফরুল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হয়েছেন। আর দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।