বিনিয়োগে আগ্রহী মালয়েশিয়া

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়নে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারী মি. সিমের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল এ অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রাথমিকভাবে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার বিষয়েও প্রতিনিধিদলটি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেলে বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদলটি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে তারা দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করে অবকাঠামো, শিল্পায়নের সম্ভাবনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘুরিয়ে দেখানো। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা এ অঞ্চলের সম্ভাবনায় আশাবাদী এবং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে স্থানীয় বেকার জনগোষ্ঠীর নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

মালয়েশিয়ান প্রতিনিধিদলের প্রধান মি. সিম বলেন, দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রাথমিকভাবে ১০০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ¦ালানির সংযোজন ঘটবে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনেরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, কৃষিপণ্যের সহজলভ্যতা এবং তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিভিত্তিক এবং রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেবীগঞ্জসহ পঞ্চগড় জেলার হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়নে নতুন গতি আসবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শুরুতে ৬০২ দশমিক ৪২ একর জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা সংশোধন করে ২৫০ দশমিক ৮৫ একর নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ২৪০ একর অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য এবং ১০ দশমিক ৮৫ একর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৮৫ দশমিক ৮৬ একর জমি বেজার অনুকূলে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।