যমুনা নদী ভাঙন

চৌহালীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ১২ বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার জোতপাড়া গ্রামে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১২টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে আরও শতাধিক বসতবাড়ি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তারা জানায়, জোতপাড়া গ্রামের জনতা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন কে কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি টিনশেড ভবনের একাংশ যমুনা নদীতে ধসে পড়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের ধসে পড়া অংশ নদীর পানিতে ঝুলে পড়ে আছে। এ ছাড়া একটি বসতবাড়ির টিনের ঘরের বেশকিছু অংশ যমুনা নদীতে পড়ে ভাসছে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেছে।

এবিষয়ে জোতপাড়া গ্রামের মো.রবিউল মোল্লা জানান, শনিবার দিবাগত রাতে মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যবধানে ভয়াবহ এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে। এতে মোট ১২টি বসতঘর যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে পড়েছে আশপাশ এলাকার শত শত অসহায় মানুষ। অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও মূল্যবান আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

একই গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, শুধু জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে এই ভয়াবহ নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে দ্রুত সময়ের মধ্যে টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

এবিষয়ে জানতে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান,  আগে থেকেই ওই এলাকার ভাঙনরোধে বালুর বস্তা ফেলার কাজ চলছিল। শনিবার এর মধ্যেই নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় রবিবার সকাল থেকেই ঠিকাদারের মাধ্যমে ১০ হাজার জিও টেক্স ব্যাগ ও টিউব ফেলা শুরু হয়েছে। ভাঙনরোধ না হওয়া পর্যন্ত এ কাজ চলবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই যমুনা নদীর ভাঙনে শত শত বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু স্থায়ীভাবে এ ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। এবার তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।