আফ্রিকার সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার

জলবায়ু পরিবর্তনের বিষাক্ত ছোবলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের একটি বড় অংশ আফ্রিকা মহাদেশে। গতকাল রবিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আসন্ন ‘সুপার’ বা ‘গডজিলা’ এল নিনো আফ্রিকার অর্থনীতি ও মানবিক পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এএফডিবি)। সংস্থাটির শীর্ষ জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি নিয়ং জানান, এ দুর্যোগে আফ্রিকান দেশগুলোতে সম্মিলিতভাবে ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ক্ষতি হতে পারে। এএফডিবি মনে করছেÑ সুদান, দক্ষিণ সুদান, ডিআর কঙ্গো, সোমালিয়া, মালি, বুরুন্ডি ও নাইজেরিয়া সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

নিয়ং আরও জানান, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) গড়ে ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত ধসে পড়তে পারে। এতে মহাদেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাপক ধাক্কা খাবে। শুধু খাদ্য ও পানি সুরক্ষাই নয়, দুর্যোগে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে অর্থসংকটে থাকা দেশগুলোর ব্যাংক ও সরকারি অর্থব্যবস্থাও ভেঙে পড়তে পারে। এর আগে সাহেল অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী খরা কিংবা ঘূর্ণিঝড় ইদাইয়ের আঘাত কাটিয়ে উঠতেই বহু বছর লেগে গিয়েছিল। আর এবার সেই ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা রূপ নিতে পারে আরও ভয়াবহ ‘গডজিলা’ বা ‘সুপার’ এল নিনোতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে আফ্রিকা এখন এক কঠিন ‘জলবায়ু অর্থায়নের ফাঁদে’ আটকে পড়েছে। জলবায়ু সংকটের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে সরকারগুলো স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোর বাজেট থেকে টাকা কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে। ইতিমধ্যে চলতি বছর শস্যহানির কারণে আফ্রিকার কৃষকরা প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার আয় হারিয়েছেন। অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির ফলে বহু এলাকায় প্রধান খাদ্যশস্য ভুট্টার দাম দ্বিগুণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে সুদান, দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া, মালি, বুরুন্ডি, ডেমোক্রেটিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও নাইজেরিয়ার মতো স্পর্শকাতর দেশগুলোতে চারণভূমি ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেবে। এটি স্থানীয় সংঘাতকে উসকে দেওয়ার পাশাপাশি মানুষকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করবে। উৎস ও সম্পদের চরম ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও কেবল বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার পর ত্রাণ দেওয়ার চেয়ে আগে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর বছরে প্রায় ৩৬৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। অথচ ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক অভিযোজন অর্থায়ন ছিল মাত্র ২৬ বিলিয়ন ডলার।