দায়িত্বে থাকতেই সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে দুদক

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের বা বিচারিক কার্যক্রম চালানো যায় না। তবে এই সাংবিধানিক দায়মুক্তি বহাল থাকা অবস্থায় সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা গ্রহণ এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে আইন অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা।

মামলাটি দায়েরের প্রায় ১০ মাস পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর সম্প্রতি বিষয়টি গণমাধ্যমের নজরে আসে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা গ্রহণ সংবিধান ও আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাঁর ভাষায়, আদালত কীভাবে এমন মামলা আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন, সেটি বড় প্রশ্ন।

তিনি সংবিধানের ৫১(২) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রপতির কার্যভার চলাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের বা চালু রাখা যায় না। একই সঙ্গে তাঁর গ্রেপ্তার বা কারাবাসের জন্যও কোনো আদালত থেকে পরোয়ানা জারি করা যায় না।

ড. শাহদীন মালিক বলেন, কে এ ধরনের মামলা করলেন, কোন আইনজীবী তা পরিচালনা করলেন এবং কোন বিচারক এটি গ্রহণ করলেন-এসব বিষয়ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সিনিয়র কর্মকর্তা মো. আবদুচ ছামাদ ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, পারস্পরিক যোগসাজশে ‘ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড’-এর নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ ও লুণ্ঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে দুর্নীতি, প্রতারণা ও অবৈধ প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আনা হয়।

মামলায় মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে তাঁর পরিচয় দেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক হিসেবে।

অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম), ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন, আরাস্তু খান ও অধ্যাপক মো. নাজমুল হাসান।

মামলা দায়েরের দিনই ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আমলে নেন। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

সর্বশেষ গত ২৩ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও দুদক তা জমা দেয়নি। পরে আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১১ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সেরেস্তার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মামলার এজাহারে রাষ্ট্রপতির পরিচয় গোপন রাখা হয়েছিল।

তাঁর দাবি, আসামির তালিকায় মো. সাহাবুদ্দিনের নাম থাকলেও সেখানে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কোনো পরিচয় উল্লেখ ছিল না। ফলে আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বুঝতে পারেননি যে তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি। বিষয়টি জানা থাকলে মামলা গ্রহণের প্রশ্নই উঠত না।

অন্যদিকে বাদীপক্ষের প্যানেল আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এজাহারের ১২ নম্বর আসামি সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি কি না, তা তাঁর জানা নেই। তিনি জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যে আসামির তালিকা দিয়েছে, সেটির ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।