পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে লাগতে পারে আরও তিন মাস

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সচিব কমিটির দীর্ঘ বৈঠক হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী অক্টোবরের আগে গেজেট প্রকাশের চেষ্টা চলছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বৈঠক করে সচিব কমিটি। বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের সুপারিশ, আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, পে-স্কেল-সংক্রান্ত ফোকাল কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আর্থিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংস্থাটি এ মত দিয়েছে। সম্প্রতি আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে এসে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরে।

তবে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আইএমএফের এ পরামর্শ পুরোপুরি গ্রহণে আগ্রহী নন। তারা পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চান, যদিও ঘোষণার প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটিকে আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠক করতে হতে পারে। এরপর কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে অর্থ বিভাগ নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করবে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে কমিশনের সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছে সরকার। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

রবিবারের বৈঠকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাব্য আর্থিক চাপ, বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি আইএমএফের পর্যবেক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা, দেশে গ্যাস সরবরাহের চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ব্যয়ের যৌক্তিকতা পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, আইএমএফ চায় নতুন পে-স্কেলের সিদ্ধান্ত অন্তত অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখা হোক। এতে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফের বার্ষিক সভায় নতুন ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া নভেম্বরে আইএমএফের আরেকটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে। সে সময় নতুন ঋণ কর্মসূচি এবং পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়েও আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।