জিম্বাবুয়ে সফরে বিশ্রামে থাকার পর ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন ভারতের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন। দেশের মাটিতে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেও ২০২৮ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ নিয়ে খুব বেশি আগাম পরিকল্পনা করতে চান না তিনি।
জিওস্টার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩১ বছর বয়সী এই তারকা জানান, তিনি দেশের প্রচলিত ‘ইঁদুর দৌড়’-এর অংশ হতে চান না এবং নিজের শর্তেই ক্যারিয়ারের বাকি সময়টুকু উপভোগ করতে চান, "২০২৪ বিশ্বকাপের পর আমি নিজেই ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার আশা করিনি। একসময় আমি ১৪ বা ১৫ জনের দলেও ছিলাম না। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাদের দেশে একটা অনবরত ‘ইঁদুর দৌড়’ চলছে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে এই দৌড়ের অংশ হব না। পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, আমি খেলব, খেলাটা উপভোগ করব, দলের সেরা সতীর্থ হওয়ার চেষ্টা করব; তবে সবটাই করব আমার নিজের নিয়মে।" কীভাবে ব্যাটিং করবেন বা কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা অন্য কারও কথায় ঠিক হবে না বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর সংজু ভারতের হয়ে চারটি ম্যাচ খেলেছেন। আয়ারল্যান্ড সিরিজের দুই ইনিংসে তিনি ৫ ও ০ রান করেন এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আউট হন ১ রানে। এরপর একাদশে জায়গা পান তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে একাদশে ফিরে ১৪ বলে ২৭ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন স্যামসন। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়হীন টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষের পর জিম্বাবুয়ে সফর থেকে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। এই সুযোগে সূর্যবংশী ওপেন করে সিরিজ সেরা পারফরম করেছেন।
তবে সাম্প্রতিক এই ফর্মহীনতা সত্ত্বেও ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টিতে সঞ্জু স্যামসনের গড় ৩০-এর উপরে। এ বছর ১৪ টি-টোয়েন্টিতে ১৮০.৯৯ স্ট্রাইক রেটে তিনি ৪০০ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ভারতীয় স্কোয়াডেও রয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, টপ অর্ডারে অভিষেক শর্মার ধারাবাহিক ফর্মহীনতা (জিম্বাবুয়ে সফরে মাত্র ১১ রান এবং শেষ ১০ ইনিংসে ১৯১ রান) ভারতকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। বামহাতি ব্যাটারদের আধিক্য থাকায় সূর্যবংশীর সাথে ডানহাতি সংজু স্যামসনকে আবারও ওপেনিং পজিশনে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
জাতীয় দলের এক ক্যাম্পের স্মৃতি মনে করে স্যামসন জানান, ভারতের সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলি তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হওয়ার জন্য জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের গুরুত্ব বুঝিয়েছিলেন। খাদ্যতালিকা ও শৃঙ্খলার বিষয়ে কোহলি যে টিপস দিয়েছিলেন, তা এক বছরের মতো মেনে চললেও পরবর্তীতে আর তা ধরে রাখতে পারেননি বলে জানান স্যামসন।