২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও কি দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জিতবে বাংলাদেশ? আগামী নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরে সেই সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। কেবল সম্ভাবনাই নয়, দুই যুগের শিরোপা-খরা ঘুচানোর স্বপ্নও দেখতে পারে বাংলাদেশ। কারণ মাঠে নামার আগে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের শক্তিশালী স্কোয়াড নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের।
আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তবে এবারের আসরে ভারতের মূল জাতীয় দল না থাকার সম্ভাবনা প্রবল। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফ) একই সময়ে নিউজিল্যান্ড সফরে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করায় সাফে তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ বা অলিম্পিক দল অংশ নিতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সফল দলটিকে পূর্ণ শক্তিতে না পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ফিফার সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কারণে নেপালের অংশগ্রহণও অনিশ্চিত। তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের অভিযোগে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন নিষিদ্ধ থাকায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে তারা সাফে খেলতে পারবে না। এই দুই পরিস্থিতি স্বাগতিক বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। ২০০৩ সালে ঢাকায় সর্বশেষ সাফের শিরোপা জয়ের পর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিরোপার অপেক্ষায় রয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
নতুন কোচ যুক্তরাষ্ট্রের টমাস ডুলির অধীনে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলকে নতুন কৌশলে গড়ে তুলছেন তিনি। প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তিও দলের শক্তি বাড়িয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজা চৌধুরী, কানাডাভিত্তিক শামিত সোম এবং ইতালি প্রবাসী ফাহামিদুল ইসলামের মতো ফুটবলারদের উপস্থিতিতে এবারের বাংলাদেশ দল আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাসী।
তবে প্রতিযোগিতা সহজ হবে না। মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের মতো দলগুলোও শিরোপার লড়াইয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে। তবুও ভারতের মূল দলের অনুপস্থিতি এবং নেপালের অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের সামনে দীর্ঘদিনের শিরোপাখরা কাটানোর এক সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এখন সব নজর মাঠের পারফরম্যান্সে। ঘরের দর্শকদের সমর্থন এবং শক্তিশালী স্কোয়াডকে কাজে লাগাতে পারলে ২৩ বছর পর আবারও সাফের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে বাংলাদেশের।